ডাকসু থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সর্বমিত্র চাকমার
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:২৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। সম্প্রতি শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশও করেছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, “ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কারো প্রতি ক্ষোভ বা অভিমানবশত নয়। শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, আমি তা পূরণ করতে পারিনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত।”
শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠটি কেবল শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঠটিকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
সর্বমিত্র আরও লেখেন, “বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করে। নিষেধ করলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ে পালিয়ে যায়, যা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।”
কিশোরদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার কাম্য আচরণ ছিল না। এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি। এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।