ট্রাম্পকে ‘স্বৈরাচারী ফেরাউন’ আখ্যা দিয়ে কার্টুন পোস্ট খামেনির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৫২
ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে তার একটি অবমাননাকর কার্টুন পোস্ট করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) খামেনির আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা কার্টুনে ট্রাম্পকে প্রাচীন মিশরের মমি সংরক্ষণের কফিন বা সারকোফ্যাগাসের ভেতরে একটি ভঙ্গুর মূর্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। পটভূমিতে দেখা যাচ্ছে পিরামিড ও প্রাচীন মিশরীয় লিপি হায়রোগ্লিফিক্স।
ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় খামেনি ট্রাম্পকে ইতিহাসের অত্যাচারী শাসক ফেরাউন ও নমরুদের সঙ্গে তুলনা করে সতর্ক করেছেন। বার্তায় বলা হয়েছে, তাদের মতোই ট্রাম্পের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
খামেনির পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ফেরাউন, নমরুদ কিংবা ইরানের পাহলভি রাজবংশের রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজার মতো স্বৈরাচারী শাসকদের তাদের গৌরবের শীর্ষ অবস্থান থেকে উৎখাত করা হয়েছিল। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে অহমিকার সঙ্গে যারা বিচার করছেন, তাদেরও একই পরিণতি হবে।
এই ‘প্রতীকী’ জবাবের মাধ্যমে খামেনি মূলত ট্রাম্পের উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, যেখানে ট্রাম্প ইরানের জনগণের মুক্তির জন্য প্রয়োজনে সেনা পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৬ দিন ধরে ইরানে চলা বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ দাবি করেছে।
অপরদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কঠোর সামরিক ও কৌশলগত বিকল্প নিয়ে ভাবছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরানের নেতারা আলোচনার জন্য ফোন করলেও কোনো বৈঠক হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সাইবার হামলা, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সরাসরি সামরিক অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সাইবার অস্ত্র ব্যবহার বা অনলাইনে সরকারবিরোধী উৎসগুলোকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ত্বরান্বিতভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
তেহরান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা করলে তারা পাল্টা আঘাত হানবে। খামেনির সর্বশেষ এই কার্টুন পোস্টের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন চূড়ান্ত অস্থিতিশীল পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বানের বিপরীতে খামেনি যে বার্তাটি দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের সরাসরি উসকানির জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন কী ধরনের কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়।
সূত্র: বিবিসি
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।