মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

সাভারে শীর্ষ সন্ত্রাসী তোতলা পাভেল গ্রেফতার

সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি ও হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তোতলা পাভেল গ্রেফতার

সাভার প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি ও হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ পাভেল ওরফে তোতলা পাভেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল, চীনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় পাভেলকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চীনের বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাভেল বাংলাদেশে ফিরছে—ইন্টারপোলের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়ে ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় সাভার মডেল থানা পুলিশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। দুপুরে বিমানে তিনি দেশে পৌঁছালে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিকেলে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, পাভেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার পুকুরপাড় গ্রামের হেফজু মিয়ার ছেলে এবং নিষিদ্ধ সংগঠন সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পতিত উপজেলা চেয়ারম্যান শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গডফাদার মনজুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ক্যাডার হিসেবে তিনি বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একদফা আন্দোলন চলাকালে মনজুরুল আলম রাজীবের সঙ্গে সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা ও গুলিবর্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তোতলা পাভেল। ঘটনার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।

পাসপোর্টে নাম পরিবর্তন করে পাভেল ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ শেষে সর্বশেষ চীনে অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে তিনি জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর ভারত হয়ে পর্তুগাল ঘুরে আমেরিকায় যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টাও চালাচ্ছিলেন তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা মার্কেটে দোকান দখল, চাঁদা দাবি ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ওপর হামলা, সাভার পৌরসভার আনন্দপুর সিটিলেন এলাকায় ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী চুন্নুর প্রতিষ্ঠানে গুলি করে আতঙ্ক ছড়িয়ে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রকিকে অপহরণ করে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়সহ সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় তিনি মামলার আসামি।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত ছাত্রদের স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তারা পাভেলের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি ইমরান আলী বলেন, মোহাম্মদ পাভেল সাভারে সংঘটিত ছাত্র হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিল—এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া পাঁচটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৩ মামলার এজাহারনামীয় আসামি। এসব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করে মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top