মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

রেলওয়ের কোটি টাকার জমি দখল করে প্লট ও মাটি বিক্রির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৪

কাশিয়ানী উপজেলায় রেলওয়ের মূল্যবান জমি দখল করে প্লট আকারে বিক্রি| ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় রেলওয়ের মূল্যবান জমি দখল করে প্লট আকারে বিক্রি ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে রেলওয়ের জমি খনন করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।

 

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন–এর আওতাধীন সদর ইউনিয়নের জেএল নং ৩৮ বরাশুর মৌজায়, ঢাকা-বেনাপোল রেলপথ, ঢাকা-খুলনা রেলপথ এবং ভাটিয়াপাড়া-কালুখালি লোকাল রুট–সংলগ্ন রেলওয়ের জমি প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে।

 

প্লট ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। জমি ভরাট করে বসবাসের উপযোগী করতে একই বিক্রেতার কাছ থেকে মাটি কিনতে হচ্ছে, যার ব্যয় প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।

 

নড়াইল জেলার বাসিন্দা এক ক্রেতা আলামিন হোসেন জানান, তিনি ৩ শতাংশ জমি ৪৮ হাজার টাকায় ইউপি সদস্য জাকির মোল্লার কাছ থেকে কিনেছেন। তবে তাকে কোনো দলিল বা বৈধ কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। তার মতো আরও অনেকেই এভাবে জমি কিনছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

অভিযুক্ত জাকির হোসেন মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মৎস্য খামারের জন্য বন্দোবস্ত নিয়েছেন। সেখান থেকে কিছু মাটি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এবং কিছু গরিব মানুষকে দিয়েছেন। প্লট বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

 

এ বিষয়ে অনিক বিশ্বাস, স্টেশন মাস্টার, বলেন—রেলওয়ে কখনো কোনো ব্যক্তিকে জমি খনন বা প্লট বিক্রির অনুমতি দেয় না। প্লট ও মাটি বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি জানান, বিষয়টি রেলওয়ের প্রশাসনিক টিমকে অবহিত করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি বহনকারী দুটি ট্রলি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তার চোখের সামনেই মাটি বিক্রি চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, স্টেশন মাস্টার অনিক বিশ্বাস নিজেও পাঁচ ট্রলি মাটির সুবিধা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন—যা নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রেলওয়ের জমি দখল ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top