মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

কাশিয়ানীতে বীর নিবাস নির্মাণকাজ স্থগিত, ঘুষ ও প্রতারণার অভিযোগে তোলপাড়

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ | প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৫

ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত ‘বীর নিবাস’ নির্মাণকাজ হঠাৎ করে স্থগিত থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এক মুক্তিযোদ্ধা ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে—যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ঘুষ গ্রহণ ও প্রতারণার।

গত অর্থবছরে কাশিয়ানী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ পাওয়া বীর নিবাস ঘরের মধ্যে একটি ঘরের নির্মাণকাজ উপজেলা প্রশাসন স্থগিত করে। ইতোমধ্যে ওই ঘরটির ইটের গাঁথুনির কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।

স্থগিত হওয়া ঘরটি বরাদ্দ পেয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তবিবর রহমান। তিনি কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়ন-এর দক্ষিণ চরভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা তবিবর রহমান। তিনি বলেন,
“উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই শুরু হলে তিনজন স্বাক্ষীর জবানবন্দি ও স্বাক্ষ্য প্রমাণ লাগে। এ সময় কাশিয়ানী সমাজসেবা অফিসে কর্মরত ইউনিয়ন সমাজকর্মী রাকিব আমাকে স্বাক্ষী জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলে নগদ ৩০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু পরে চূড়ান্ত যাচাই তালিকায় আমার নাম না থাকায় ইউএনও ঘরের কাজ বন্ধ করে দেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাকিব আত্মসাৎ করেছে। আমাকে বিশ্বাস করে ভুল করেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এভাবে প্রতারণা ও অপমান করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন সমাজকর্মী রাকিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবেদকের মুখোমুখি হলে তিনি টাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও অপরাধের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলবেন বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও। বীর নিবাস নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অথেনটিক ট্রেড লিংক-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান,
“বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবর রহমানের বীর নিবাস নির্মাণাধীন অবস্থায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন বাকি কাজও করতে পারছি না, বিলও পাচ্ছি না। নিরুপায় হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাইনি। এতে আমি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

ইউনিয়ন সমাজকর্মী রাকিবুর রহমানের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শেখ বজলুর রশিদ বলেন,
“অভিযোগের বিষয়ে যথাবিধি তদন্ত করা হবে। প্রমাণ সাপেক্ষে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top