বিদায় অনুষ্ঠানের পর নিখোঁজ, ৮ ঘণ্টা পর স্কুলের তালাবদ্ধ কক্ষে মিলল অচেতন ছাত্রী
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৯
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিদায় অনুষ্ঠানের পর নিখোঁজ হওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রায় ৮ ঘণ্টা পর বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় ওই ছাত্রী। পরে সন্ধ্যা ৮টার দিকে স্থানীয়রা তাকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান এবং উদ্ধার করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সকালে বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্কুলে গিয়েছিল মেয়েটি। অনুষ্ঠান শেষ হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে সন্ধ্যার দিকে তারা বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাছে চাবি চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্কুলে কেউ নেই বলে দাবি করেন।
এ সময় ছাত্রীর মামার সঙ্গে দপ্তরির বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তৃতীয় তলার একটি কক্ষে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগীর মামা মো. নাজিম বলেন, মেয়েটি সকালে স্কুলে গেলেও আর বাড়ি ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। পরে স্কুলে গিয়ে দপ্তরির কাছে চাবি চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং দুর্ব্যবহার করেন। পরে কক্ষ খুলে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকালে মেয়েটি অচেতন অবস্থায় ছিল এবং কথা বলতে পারছিল না। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুজ্জামান বলেন, বিদায় অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষকরা বাড়ি চলে যান। পরে নিখোঁজের খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে খোঁজ করা হয়। দপ্তরির কাছ থেকে চাবি নিয়ে তল্লাশি চালানোর পর মেয়েটিকে তৃতীয় তলায় পাওয়া যায়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, মেয়েটি একাই একটি কক্ষে প্রবেশ করে কিছু সময় অবস্থান করে পরে বের হয়ে যায়। এরপর তার আর কোনো গতিবিধি পাওয়া যায়নি।
মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো ধরনের হামলা বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সে শারীরিক ব্যথার কথা জানিয়েছে। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ধর্ষণ বা এ ধরনের কোনো ঘটনার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মেয়েটি কীভাবে ওই অবস্থায় পৌঁছেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।