কুড়িগ্রামে মেয়েকে বাঁচাতে অসহায় বাবা-মায়ের আকুতি, প্রয়োজন ৬ লাখ টাকা
আনারুল ইসলাম রানা | প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৫
কুড়িগ্রামের উলিপুরে জন্ম থেকেই হার্টের ছিদ্র ও ভাল্বজনিত জটিল রোগে আক্রান্ত এক তরুণীর জীবন এখন ঝুঁকির মুখে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬ লাখ টাকা, যা জোগাড় করতে না পেরে অসহায় হয়ে পড়েছেন তার দিনমজুর বাবা-মা। একইসঙ্গে মায়ের অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো বুকের দুধ না পেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে তার ১০ মাস বয়সী শিশুসন্তানও।
জানা যায়, উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ জামিরবাড়ি আদর্শপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিয়া ও আমেনা বেগমের তৃতীয় সন্তান আখিমনি (১৮) দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। প্রায় আড়াই বছর আগে পাশ্ববর্তী এলাকায় দর্জি সুজন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সন্তানের জন্ম হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে।
প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হার্ট সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন। তবে প্রায় দেড় মাস পার হলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আখিমনির চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে বাড়ির দুই শতক জমি বিক্রি করা হয়েছে। তবুও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা যায়নি। ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস করা পরিবারটি এখন বৃষ্টির মধ্যেই রাত কাটাচ্ছে।
আখিমনির মা আমেনা বেগম বলেন, “মেয়েটা ঠিকমতো খেতে পারে না, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ব্যথায় কুকড়ে গেলে সহ্য করতে পারি না। আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”

বাবা রাজু মিয়া জানান, “দিনমজুর মানুষ আমি। যা ছিল সব শেষ। এখন অপারেশনের টাকাটা জোগাড় করতে পারছি না। মেয়েটা সুস্থ না হলে তার বাচ্চাটার ভবিষ্যৎও অন্ধকার।”
স্থানীয়রা জানান, তারা সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন। তবে বড় অঙ্কের এই অর্থ সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অসুস্থ আখিমনি নিজেও বাঁচার আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমার বাচ্চাটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। সবাই যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে হয়তো আমি সুস্থ হতে পারবো।”
আখিমনির চিকিৎসার জন্য সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার। সামান্য সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি মায়ের জীবন এবং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।