বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

শুল্ক কমল, স্মার্টফোনের দাম কমার সম্ভাবনা

দেশে মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১০%

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩০

ছবি: সংগৃহীত

সরকার মোবাইল ফোন ও এর যন্ত্রাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়েছে। স্মার্টফোনের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে দেশে স্মার্টফোনের দাম গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

দেশে মূলত দুই ধরনের হ্যান্ডসেট বাজারে পাওয়া যায়—অফিসিয়াল এবং অবৈধ। অবৈধ হ্যান্ডসেট হলো শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা, নকল অথবা পুরোনো সেট সংস্কার করে বিক্রি করা ফোন। এসব অবৈধ সেট মূল হ্যান্ডসেটের অর্ধেক দামে বিক্রি হয় এবং নানা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে সরকার চলতি মাসে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করেছে।

এনইআইআর কার্যকর হওয়ার আগেই ব্যবসায়ীরা আন্দোলন চালিয়েছিলেন। তারা রাস্তা অবরোধ, দোকান বন্ধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, এনইআইআর চালু হলে বৈধ স্মার্টফোনের দাম বাড়বে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাবে।

এরপর টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বৈধ সেটের দাম কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ হলো শুল্ক ও কর কমানো। ১ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের সভায় হ্যান্ডসেটে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়।

এফেক্টিভভাবে, শুল্ক কমে এখন ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এনবিআরের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে আমদানি করা প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।

একজন মোবাইল ফোন প্রস্তুত ও আমদানিকারক ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে হ্যান্ডসেটের ওপর মোট ৬১ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপিত আছে। ১৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি কমালে মোট ভ্যাট-ট্যাক্সে প্রভাব পড়বে ২০ শতাংশ। এর অর্থ, ৪০ হাজার টাকার একটি স্মার্টফোনের দাম আনুমানিক আট হাজার টাকা কমতে পারে।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি করা স্মার্টফোনের দাম প্রায় পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। সংস্থাটি আশা করছে, এতে ব্যবসায়ীরা বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানিতে উৎসাহিত হবেন এবং অবৈধ হ্যান্ডসেটের বাজার কমে আসবে।

শুল্ক ছাড় শুধু আমদানিতে সীমাবদ্ধ নয়, দেশীয় মোবাইল সংযোজন শিল্পকেও স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। এনবিআর জানিয়েছে, মোবাইল সংযোজনের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতেও শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে না এবং কাঁচামালের খরচ কমবে।

দেশে বর্তমানে ৯টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ফোন সংযোজন ও প্রস্তুত করছে। নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে দেশে সংযোজিত ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমতে পারে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top