বিপিসিকে এলপিজি আমদানি অনুমোদন, দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ
বাণিজ্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৭
দেশে চলমান সংকট এবং অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন,
“বিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এখন সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে এলপিজি আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমদানি হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভারসাম্য আসবে।”
তবে আপাতত সরকার শুধুমাত্র এলপিজি আমদানির পর্যায়ে যুক্ত থাকবে। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এসব কার্যক্রম বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এর আগে ১০ জানুয়ারি বিপিসি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে এলপিজি আমদানের অনুমতি চেয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়, দেশের এলপিজি বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটের সময় সরকারিভাবে বাজারে হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। ফলে সরবরাহ-ঘাটতি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলার কার্যকর হাতিয়ার সরকারের হাতে থাকে না।
নীতিগত অনুমোদন পেলে বিপিসি জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে দ্রুত বাজারে সরবরাহ করবে, যা বাজারে সরবরাহ বাড়াবে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হবে।
এদিকে, সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি ৭০০ থেকে ১,৭০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতে ১২ কেজি এলপিজি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়, যা নির্ধারিত দামের তুলনায় ৭০০–১,২০০ টাকা বেশি। ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের জন্য বাড়তি নেয়া হচ্ছে ১,৭০০ টাকা পর্যন্ত।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, বাজারে থাকা ৫ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডারের মধ্যে বর্তমানে মাসে দুইবার রিফিল হচ্ছে ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার। প্রতিটি সিলিন্ডারে এক হাজার টাকা বাড়তি নেওয়া হলেও মাসে গ্রাহকের পকেট থেকে লুট হচ্ছে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।