বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বিশাল ধস, নেপথ্যে যে কারণ
বাণিজ্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৩
এই সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু শুক্রবার হঠাৎ করেই একদিনে স্বর্ণের দাম ১২% এর বেশি কমে যায়। এই পতনে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের দাম কমার প্রধান কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তি বৃদ্ধি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দেন। যেহেতু তিনি আগে ফেডের গভর্নর ছিলেন, তাই বাজারে বার্তা যায় যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা থাকবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তাহীনতার ভয় কমে যায় এবং তারা স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ থেকে সরে আসে।
ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের দাম সাধারণত চাপে পড়ে। কারণ স্বর্ণ ডলারে মূল্যায়ন করা হয়। ডলার বৃদ্ধি পেলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণের খরচ বেড়ে যায় এবং চাহিদা কমে যায়।
স্পট গোল্ড: ৪,৭২৪ ডলার প্রতি আউন্স , রুপা: প্রতি আউন্স ৭৯.৩০ ডলার, ৩১% কম, পূর্বের অবস্থার সঙ্গে তুলনা
সপ্তাহের শুরুতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে স্পট গোল্ড ৫,৪১৮ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ফিউচারস বাজারে পরে দাম ৫,০০০ ডলারের নিচে নেমে আসে, যা দ্রুত দামের সংশোধনের ইঙ্গিত দেয়।
সিটি গ্রুপের বিশ্লেষণ অনুযায়ী: স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েন, তাইওয়ান সংক্রান্ত ঝুঁকি, সরকারি ঋণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এখনও বাজারে আছে।
২০২৬ সালের শেষ দিকে এই ঝুঁকির প্রায় অর্ধেক কমে যেতে পারে বা স্থায়ী নাও হতে পারে, তখন স্বর্ণের দাম আবার চাপের মুখে পড়তে পারে।
২০২৬ সালের শুরুতে অনেক মানুষ পুরোনো গয়না বিক্রি করেছেন বা নতুন কয়েন ও বার কিনেছেন। অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণের দাম সাধারণত বেড়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন:
বিক্রির ক্ষেত্রে একাধিক উৎসের দাম যাচাই করা, বিনিয়োগ বিভিন্ন সম্পদে ছড়িয়ে ঝুঁকি কমানো
উল্লেখ্য: এক বছর আগে স্পট গোল্ডের দাম ছিল ২,৭৯৫ ডলারের নিচে। বর্তমানে দাম এখনও অনেক বেশি।
সূত্র: ইকনমিক টাইমস
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।