হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন জুমা
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:১৫
শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি দাবি করেছেন, শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ফয়সালকে জামিনে মুক্ত করা হয়েছিল।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জুমা এ দাবি করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “ফয়সালকে জামিনে বের করা হয়েছিল এ খুনের জন্যই। সরকারে বসা কে এ জামিনের জন্য তদবির করেছিল? কোন বিচারক এ রায় দিয়েছিলেন? তিনি কার দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত? কোন আইনজীবী জামিন করিয়েছেন? কার মাধ্যমে সে ইনকিলাবে যুক্ত হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর জাতির সামনে আসা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, কবির নামে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি যেদিন প্রথম একটি ‘টাম্প’ (প্রমাণসংশ্লিষ্ট উপকরণ) নেন, সেদিন ফয়সালের সঙ্গেই ছিলেন। ফলে ফয়সালের পাশাপাশি তার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরও মামলার অগ্রগতি না থাকা এবং নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না—এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফাতিমা তাসনিম জুমা মনে করেন, এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা সামনে আনলে হত্যাকাণ্ডের অনেক অজানা দিক উন্মোচিত হবে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষণা দেয়, আগামী ‘২২ কার্যদিবসের’ মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফশিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এরপর ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাকে দাফন করা হয়।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।