শেখ হাসিনার সাবেক পিয়ন জাহাঙ্গীর আলমের জমি-ফ্ল্যাট জব্দ, স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৯
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিয়ন) জাহাঙ্গীর আলমের নামে থাকা প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার জমি ও ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে থাকা সাতটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ( ২০ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, জাহাঙ্গীর আলমের নামে নোয়াখালীর সদর উপজেলা ও চাটখিল উপজেলায় মোট ৩৫ শতাংশ জমি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব জমির বাজারমূল্য এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪০ টাকা। পাশাপাশি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ১ হাজার ৩৮৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটও জব্দ করা হয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৪১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে থাকা সাতটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট এক কোটি তিন লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৯ টাকা জমা রয়েছে বলে দুদক আদালতকে জানিয়েছে।
জমি ও ফ্ল্যাট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল। আবেদনে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত ও মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার নামে থাকা সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে ছয় কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার নামে খোলা সাতটি সঞ্চয়ী ও ডিপিএস হিসাবে মোট পাঁচ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ায় দুদক তার বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা তার বাসায় কর্মরত এক পিয়নের বিপুল সম্পদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,
‘আমার বাসায় কাজ করেছে, পিয়ন ছিল সে। এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না। কীভাবে বানাল এত টাকা? জানতে পেরেছি, পরেই ব্যবস্থা নিয়েছি।’
যদিও সে সময় নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তার ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ আসে।
জাহাঙ্গীর আলম টানা দুই মেয়াদে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসা থেকে খাবার ও পানি বহনের দায়িত্বে থাকায় তিনি ‘পানি জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিতি পান।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম একসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলম একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং একসময় জাতীয় সংসদে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হতে শুরু করেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি নিজের নামে প্রায় ২১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে দেখানো হয় সাত কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ জানুয়ারি আদালত জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।