কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত সম্পর্কে জানুন
লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯:০০
অনেকেই কিডনি রোগকে তেমন গুরুত্ব দেন না। অথচ কিডনি নীরবে নীরবে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে। কিডনি মূলত আমাদের শরীরের ফিল্টারের মতো কাজ করে—রক্ত পরিশোধন করে, টক্সিন বা বর্জ্য বের করে, লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং রক্ত তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।
তবে কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর আগেভাগেই কিছু ইশারা দিতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষণগুলো চেনা থাকলে সময়মতো চিকিৎসা সম্ভব।কিডনি সমস্যার সাধারণ লক্ষণসমূহ:
- দূর্বলতা ও ক্লান্তি: কিডনি ঠিকভাবে রক্ত ফিল্টার না করলে শরীরে টক্সিন জমতে থাকে। ফলে সবসময় ক্লান্তি, মাথা ভার, মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- ঘুমের ব্যাঘাত: রক্তে টক্সিন জমার কারণে ঘুম ঠিকমতো হয় না। স্থূলতা ও ঘুমের সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
- ত্বকের শুষ্কতা ও ফাটাফাটা: কিডনি খনিজ লবণ ও হাড়ের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করে। ভারসাম্য নষ্ট হলে ত্বক শুষ্ক ও ফাটতে শুরু করে।
- ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন: বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাব হলে কিডনির ফিল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
- প্রস্রাবে রক্ত বা ফেনা: রক্তকণিকা বা প্রোটিন প্রস্রাবে বের হওয়া কিডনি ক্ষতির লক্ষণ।
- চোখ ও পায়ের নিচে ফোলা: প্রোটিন লিক এবং শরীরে সোডিয়ামের অতিরিক্ত জমার কারণে ফোলা দেখা দিতে পারে।
করণীয়:
যদি এসব লক্ষণের মধ্যে এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা দেয়, দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। সাধারণ পরীক্ষা যেমন:
- ব্লাড টেস্ট (Creatinine, Urea)
- ইউরিন টেস্ট (Protein, RBC)
- আলট্রাসনোগ্রাম
- এই পরীক্ষাগুলো কিডনির অবস্থা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি রোগ শুরুতে নীরব থাকে, তবে একবার মারাত্মক হলে তা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রভাব ফেলে। তাই লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা, নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে বড় সাবধানতা।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।