ভূমিকম্পের পর মাথা ঘোরালে করণীয়
লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৭
ভূমিকম্পের পর মাথা ঘোরা একটি বেশ সাধারণ শারীরিক প্রতিক্রিয়া। তবে বিষয়টিকে একেবারে হালকাভাবে নেওয়াও ঠিক নয়। ভূমিকম্পের মতো আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু পৃথিবীকেই কাঁপায় না, আমাদের শরীর ও মনেও প্রভাব ফেলে।
ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পর অনেকেরই মাথা ঘোরা, শরীর দুলে ওঠা কিংবা চারপাশ অস্বাভাবিক মনে হওয়ার মতো অনুভূতি হয়। এ অবস্থায় প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এমনটা কেন হয়?
ভূমিকম্পের সময় আমাদের চোখ, কান এবং শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গগুলো একসঙ্গে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থায় চলে যায়। ফলে কম্পন থেমে গেলেও মস্তিষ্ক কিছু সময় সেই নড়াচড়াকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখে। এতে দেহের ভারসাম্য-ব্যবস্থায় সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ইউনিভার্সিটি অব টোকিওর ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় আমাদের ভেস্টিবুলার সিস্টেম—যা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে—হঠাৎ অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পরও কিছু সময় দুলুনির সংকেত পাঠাতে থাকে, যার ফলে মাথা ঘোরার অনুভূতি তৈরি হয়।
অন্যদিকে, স্ট্যানফোর্ড সাইকোলজি ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আতঙ্ক বা বিপদের মুহূর্তে শরীরে করটিসল হরমোন দ্রুত বেড়ে যায়। এই হরমোনের মাত্রা বেশি হলে মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘোরা কিংবা বমিভাব দেখা দিতে পারে। ভূমিকম্পের পর বাস্তবে কম্পন না থাকলেও উদ্বেগের কারণে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার-এ প্রকাশিত ২০২৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কম্পনের মধ্যে থাকলে মস্তিষ্ক কিছু সময় সেটিকে বাস্তব নড়াচড়া হিসেবে ধরে রাখে। ফলে কম্পন থেমে যাওয়ার পরও শরীর হালকা দুলছে বলে মনে হয়।
ভূমিকম্পের পর মাথা ঘোরা অনেক ক্ষেত্রেই শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। যদি— ১০–৩০ মিনিটের মধ্যে মাথা ঘোরা কমে যায়, পানি পান করলে বা বিশ্রামের পর স্বাভাবিক লাগে, ঘুমানোর পর সমস্যা চলে যায়, তাহলে সাধারণত চিন্তার কিছু নেই। এটি ভেস্টিবুলার সিস্টেমের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ধরা হয়।
তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি— মাথা ঘোরা ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে, বারবার বমি হলে, শরীর অসাড় লাগলে, হাঁটতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হলে।
মাথা ঘোরালে দাঁড়িয়ে না থেকে বসে পড়ুন, চোখ বন্ধ রাখুন। এতে ভারসাম্য ব্যবস্থা দ্রুত শান্ত হয়। ধীরে ধীরে দুই-তিন চুমুক পানি পান করুন। ডিহাইড্রেশন মাথা ঘোরানো বাড়াতে পারে।, গভীর শ্বাস নিন—৪ সেকেন্ডে শ্বাস নিন, ৬ সেকেন্ডে ছাড়ুন। এতে স্ট্রেস হরমোন কমে। হালকা খাবার খান। রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে মাথা ঘোরে, তাই বিস্কুট বা ফল উপকারী।
ভূমিকম্পের পর শরীরের এই সংকেতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখাই সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।