চলে গেলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৫৬
একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ও খ্যাতনামা লোকসংগীতশিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী আর নেই। সোমবার (গতকাল) রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তবলাশিল্পী পল্লব স্যানাল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী। মৃত্যুর পর রাত ২টার দিকে তাঁর মরদেহ ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়।
মলয় কুমার গাঙ্গুলীর একমাত্র কন্যা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। আজ রাতে তিনি দেশে ফেরার পর শেষকৃত্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
মলয় কুমার গাঙ্গুলী ১৯৪৬ সালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন। সেখানে এস এম আবদুল গণি বোখারীর লেখা ও সুরে ‘ওরে ও বাঙালি আর কতকাল থাকবি ঘুমেতে হইয়া বিভোর’ গানটিতে একক কণ্ঠ দেন, যা মুক্তিযুদ্ধকালীন অনুপ্রেরণামূলক গান হিসেবে ইতিহাসে স্বীকৃত।
চলচ্চিত্রের গানেও তাঁর কণ্ঠ ছিল সমান জনপ্রিয়। ‘পুত্রবধূ’ সিনেমার ‘গুরু উপায় বলো না’ গানটি শ্রোতামহলে বিশেষ সাড়া ফেলেছিল, যেখানে পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা প্রবীর মিত্র। এছাড়া **‘আমার মন তো বসে না’**সহ একাধিক চলচ্চিত্রের গানেও তাঁর কণ্ঠ পাওয়া গেছে।
এছাড়া, আলোচিত দেশাত্মবোধক গান ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’-এর সুরকারও ছিলেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী। গানটি তিনি নিজে গেয়েছেন; পরবর্তীতে হাসান মতিউর রহমানের লেখা এই গানটি কণ্ঠে তুলেছেন সাবিনা ইয়াসমীন।
একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবদান ও সংগীতে রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।