নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:৪১
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্ধারিত সময়সূচির কোনো ব্যত্যয় হবে না।
তিনি বলেন,
“কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়। ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।”
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক—আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবরের বন্যা ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অপচেষ্টা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। নির্বাচন শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস ও সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান বর্তমানে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সফর করছেন।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের কোনো সুযোগ রাখবে না।
ড. ইউনূস আরও বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গোম্বিস একমত পোষণ করে বলেন,
“ভুয়া খবর বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এই হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।