বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

চানখাঁরপুলে জুলাই

হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে শহীদ পরিবারের স্মারকলিপি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৯

সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দেওয়া রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারকীয় সহিংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা জাতির ইতিহাসে শহীদ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের যে রায় দিয়েছেন, তা শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।

স্মারকলিপিতে রায় নিয়ে চারটি আপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে বলা হয়, সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও রায়ে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থি। পাশাপাশি প্রিন্সিপাল অপরাধীদের অপর্যাপ্ত শাস্তি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় ভবিষ্যতে এই রায় টিকে থাকবে কি না—সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়। এছাড়া রায়টি জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি উল্লেখ করে বলা হয়, এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা চরমভাবে মর্মাহত হয়েছেন। ভবিষ্যতে এ রায় একটি নেতিবাচক নজির তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এসব বিবেচনায় রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

উল্লেখ্য, চানখাঁরপুল হত্যা মামলায় মোট আট আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। বাকি পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশনের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। পরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মামলার সব আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন সক্ষম হয়েছে।

এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ছয়জন কারাগারে আছেন।

অন্যদিকে, টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মঙ্গলবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে যুক্তি তুলে ধরলেও ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে দেন।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের উপাদান পাওয়া গেছে, যা প্রাইমা ফেসি হিসেবে বিবেচিত। বিচার প্রক্রিয়ায় এসব বিষয় যাচাই করা হবে উল্লেখ করে পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করা হয়।

এই মামলায় মোট ১৭ জন আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং সাতজন পলাতক।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top