রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২

ঢাকার যানজট কমাতে ১১ প্রস্তাবনা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩৫

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার নিত্যদিনের বড় ভোগান্তির নাম যানজট। নগরবাসীর এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে ১১টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে ‘ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি’ নামের একটি বেসরকারি সংগঠন।

রোববার (১২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। এতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেন কমিটির সভাপতি ইছহাক দুলাল।

তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়ে ২৩ থেকে ২৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে, যার বড় অংশই শহরাঞ্চলে বসবাস করবে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

তার তথ্যমতে, ২০০৭-০৮ সালে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৫ থেকে ৭ কিলোমিটারে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার যাত্রীদের প্রতি দুই ঘণ্টায় প্রায় ৪৬ মিনিট যানজটে আটকে থাকতে হয়। এতে বছরে একজন মানুষের প্রায় ২৭৬ ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা হারিয়ে যাচ্ছে এবং বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সংগঠনটি জানায়, এর আগে ২০১০ ও ২০২৪ সালে তারা এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে কিছু প্রস্তাব দিয়েছিল, যার কিছু বাস্তবায়নাধীন। বাকি প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

যানজট নিরসনে ১১টি প্রস্তাবনা:

১. খাল সংস্কার: রাজধানীর চারপাশের খালগুলো সংস্কার করে দ্রুতগতির নৌযান, জলবাস ও ছোট লঞ্চ চালু করা।

২. ট্রামপথ স্থাপন: নদীঘেঁষে শহরের চারপাশে ছোট আকারের রেলপথ স্থাপন।

৩. বেষ্টনী সড়ক নির্মাণ: ট্রামপথের পাশে একটি বেষ্টনী সড়ক গড়ে তোলা।

৪. বাস টার্মিনাল স্থানান্তর: সায়েদাবাদকে কাঁচপুরে, মহাখালীকে টঙ্গীতে এবং বাবুবাজারকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের প্রস্তাব।

৫. বিকল্প রেলসংযোগ বা উড়াল সড়ক: কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বিকল্প রেলপথ বা উড়াল সড়ক নির্মাণ।

৬. কারাগার ও আদালত একত্রে স্থাপন: কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুরে কারাগারের পাশে আদালত ভবন স্থাপন করে নগরকে দুই ভাগে ভাগ করা।

৭. বৃত্তাকার রেলযোগাযোগ: ঢাকার চারপাশে প্রায় ১০০ কিলোমিটার রেলপথ চালু করে আশপাশের জেলার সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো।

৮. ফুটপাত দখলমুক্ত করা: ফুটপাত হকারমুক্ত রেখে তাদের জন্য নির্দিষ্ট খোলা স্থানে ‘ছুটির বাজার’ চালু করা।

৯. ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন: ট্রাফিক সদস্যদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং চালকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া।

১০. নগর পরিবহন চালু: দুই সিটি কর্পোরেশনের অধীনে স্বল্প ভাড়ার ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালু করা।

১১. গাড়িতে গ্যাস ব্যবহার সীমিত করা: শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্যাস ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকার যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমবে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top