গ্রিনল্যান্ড: পৃথিবীর সর্বোত্তর সৌন্দর্যের এক অনন্য ভ্রমণ
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫০
পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্ত অ্যান্টার্কটিকার বরফশীতল অঞ্চল ঘুরে দেখার পরই মাথায় এলো পৃথিবীর সর্বোত্তর অঞ্চলের অভিজ্ঞতা নেওয়ার ইচ্ছা। সুমেরু বৃত্তে অবস্থিত এই অঞ্চলে আটটি দেশের অংশ পড়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ গ্রিনল্যান্ডের। ২০২১ সালে অ্যান্টার্কটিকা সফর শেষ করেই দেশটির ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু করি। আর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সেই দিন এল।
আমাদের যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহর থেকে। সেখান থেকে আইসল্যান্ড হয়ে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নুক শহরে পৌঁছাই। নুক, যা গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী, শহর বললে হয়তো বড় মনে হতে পারে, কিন্তু এখানে মাত্র তিনটি ট্রাফিক সিগন্যাল আছে।
নুকে কয়েকদিন কাটানোর পর আমরা ইলুলিসাতের দিকে যাত্রা করি। ইলুলিসাত গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে, সুমেরু বৃত্তের ভেতরে অবস্থিত। এখানে থাকাকালীন সময় আমরা তিমির আনাগোনা দেখেছি, সাগরের তীর ঘেঁষে পাহাড়ের পাদদেশে মাছ ধরা দেখেছি, এবং সেই মাছ স্থানীয় রেস্তোরাঁয় সরাসরি পরিবেশিত হয়েছে।
প্রতিদিন আমরা এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে ঘুরে, রাতে বোটে ফিরে আসতাম আমাদের হোটেলে। তবে গ্রিনল্যান্ডে গ্রীষ্মে সূর্য ডোবে না, তাই রাত হলেও আলো থাকে।
ইলুলিসাত ও এর আশপাশের অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল হিমবাহ রয়েছে, যা শত শত বছরের বরফকে সমুদ্রের বুকে আইসবার্গে রূপান্তরিত করে। ছোট ছোট ট্যুরিস্ট বোটগুলো এই হিমবাহের কাছে ভেসে বেড়ায়।
আমরা একটি প্রাইভেট লাল কাঠের বোট ভাড়া করি, যা ১৯৭০-এর দিকে ডেনমার্কে তৈরি হয়েছিল। আধুনিক লোহালক্কড়ের বোটের তুলনায় এই পুরনো বোটে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা একদম আলাদা। খোলা বোটে আমার স্ত্রী শারমীন ও আমি ঘুরে ঘুরে ভিডিও ও ছবি তুললাম।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।