সন্তান নেওয়ার আগে যে প্রস্তুতিগুলো জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৩

ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি সন্তান নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে কিছু প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া প্রয়োজন। এতে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং মা ও সন্তানের সুস্থতার জন্যও সাহায্য করে।

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের চিকিৎসক ও সহায় হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা একটি ভিডিওতে সন্তান নেওয়ার আগে প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

১. ফলিক অ্যাসিড

সুস্থ বাচ্চা জন্মদানের জন্য ফলিক অ্যাসিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এর অভাব থাকলে শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। গর্ভধারণের কমপক্ষে ১ মাস আগে থেকে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড খাওয়া শুরু করুন এবং গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত চলান।

২. টিকা

যদি কোনো টিকা নেওয়া বাকি থাকে, তা অবশ্যই নিন। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি টিকা নেওয়া জরুরি, কারণ গর্ভাবস্থায় এই রোগ থাকলে শিশু আক্রান্ত হতে পারে। ছোট বেলায় না দেওয়া টিকা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

৩. আয়রন

আয়রনের অভাবে অনেক নারী রক্তস্বল্পতায় ভোগেন। গর্ভাবস্থায় এর ঘাটতি সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করান এবং প্রয়োজন হলে আয়রনের অভাব পূরণ করুন।

৪. ভিটামিন ডি

ভিটামিন ডি হাড়, দাঁত ও মাংসপেশির জন্য জরুরি। শিশু সঠিকভাবে গঠনের জন্যও প্রয়োজন। নিয়মিত রোদে যাওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি সম্পূরক গ্রহণ করুন।

৫. ক্যাফেইন

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ক্যাফেইন শিশুর কম ওজন ও গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন দিনে ২০০ মিলি কফি বা আড়াই কাপ চা। সন্তান নেওয়ার পরপরই ধীরে ধীরে ক্যাফেইন কমানো শুরু করুন।

৬. ওজন

ওজন স্বাভাবিক থাকলে গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও প্রসব জটিলতা কম থাকে। সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে ওজনের দিকে নজর দিন।

৭. স্বাস্থ্যকর খাবার

সন্তান নেওয়ার পর বিশেষভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন। প্লেটের অর্ধেক শাকসবজি, একভাগ আমিষ জাতীয় খাবার ও একভাগ লাল চালের ভাত রাখুন। ফাস্টফুড, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও তেলযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন।

৮. শরীর প্রস্তুত করা

সন্তান ধারণ ও জন্মদান একটি দীর্ঘ যাত্রা। ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে প্রস্তুত করুন, যাতে গর্ভধারণের সময় বিভিন্ন জটিলতা এড়িয়ে যাওয়া যায়।

৯. ধূমপান এড়িয়ে চলা

নারী-পুরুষ উভয়ের ধূমপান সন্তান জন্মদানের ক্ষমতায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। পরিবারের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করুন।

১০. রোগ নিয়ন্ত্রণ

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা খিঁচুনি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সন্তান নেওয়ার আগে এই প্রস্তুতিগুলো মেনে চললে মা ও সন্তানের সুস্থতা নিশ্চিত হয় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top