মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

মিয়ানমারের জান্তা-নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে ইউএসডিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:২৪

সংগৃহীত

মিয়ানমারের জান্তা-পরিচালিত জাতীয় নির্বাচনে দেশটির সেনাপন্থি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের দাবি করেছে। তবে এই নির্বাচনকে সাজানো ও অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো বলছে, এর মাধ্যমে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পথ আরও দীর্ঘায়িত হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইউএসডিপির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। ফল প্রকাশের অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানান।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই অভ্যুত্থানে দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চির সরকার উৎখাত হয় এবং তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকেই গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি।

স্বাধীনতার পর থেকে মিয়ানমারের অধিকাংশ সময়ই কেটেছে সামরিক শাসনের অধীনে। অং সান সু চির নেতৃত্বে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জান্তা সরকার ক্ষমতা নেওয়ার চার বছরের বেশি সময় পর কয়েক ধাপে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করছে। তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোট আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জান্তার দাবি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

তবে সু চিকে আটক এবং তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত করার পর আয়োজিত এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রপন্থীরা ভিন্নমত দমনের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, ইউএসডিপির মতো সামরিক মিত্রদের দিয়ে ব্যালট ভরার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ভোটে ইউএসডিপি ১০০টি আসনের মধ্যে ৮৭টি আসনে জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির ওই কর্মকর্তা। প্রথম ধাপের বড় জয় যুক্ত হলে এখন পর্যন্ত নিম্নকক্ষে ইউএসডিপির আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৬। নির্বাচিত মোট ৩৩০টি আসনের মধ্যে এটি অর্ধেকের কিছু বেশি, যদিও এখনও তৃতীয় ধাপের ভোট বাকি রয়েছে।

মিয়ানমারের নিম্নকক্ষে মোট ৪৪০টি আসন রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, এর মধ্যে ১১০টি আসন সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসডিপির অনেক শীর্ষ নেতা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা হওয়ায় দলটিকে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবেই দেখা হয়।

আগামী মার্চে মিয়ানমারের সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তখন নিম্ন ও উচ্চকক্ষের সদস্যরা যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং শীর্ষ সেনা পদ ছেড়ে বেসামরিক নেতৃত্বে আসতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।

এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরবে, নাকি সামরিক শাসন আরও সুসংহত হবে—সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top