মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ছড়িয়ে পড়ছে রহস্যময় শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:০৬

সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় নতুন এক ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি রহস্যময় ও মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে গাজার নাজুক স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

গাজা সিটির আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানিয়েছেন, শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভুগছেন—এমন ব্যক্তিরা এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণঝুঁকিতে রয়েছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা ও ওষুধের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও গুরুতর হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, ভাইরাসটি ইনফ্লুয়েঞ্জা বা করোনাভাইরাসের কোনো একটি ধরন হতে পারে। অপুষ্টি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সব বয়সী মানুষের মধ্যেই সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। শীতের তীব্রতা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং তাঁবুতে গাদাগাদি করে বসবাস করা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এদিকে গাজার হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানসারের ওষুধ, কিডনি ডায়ালাইসিসসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মোহাম্মদ আবু সালমিয়া অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল গাজায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম আটকে রাখা হলেও বাজারে অনেক অপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও ইসরাইলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত আহত ও নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে গাজায় চলমান নজিরবিহীন স্বাস্থ্য বিপর্যয় মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, ল্যাবরেটরি সামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চিকিৎসকরা।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top