পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত সময়ের মধ্যেই বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাবেক মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী।
বর্তমানে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবেই দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ রাজনীতিককে আসন্ন সময়েই ঢাকায় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, বাংলা ভাষা ও আঞ্চলিক সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক—সব মিলিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে দেশটির পররাষ্ট্র পরিষেবার কর্মকর্তারাই নিয়োগ পান। সেখানে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে রাজনৈতিক বার্তা জোরদার করা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানো।
ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থিতিশীল থাকলেও কিছু কৌশলগত বিষয়ে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্ক “পুনর্গঠন বা নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। তিনি একসময় কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে শুরু করে পরে জনতা দল, এরপর তৃণমূল কংগ্রেসে যুক্ত হন। কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দল পরিবর্তন করে তিনি আবারও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
বর্তমানে এই নিয়োগকে ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এই দায়িত্ব দেওয়ার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি আসতে পারে, তবে বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের কূটনৈতিক কার্যক্রমের ওপর।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।