পাকিস্তান জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে বিক্রির পথে
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:০৪
নতুন বছরের শুরুতেই পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান জাহের আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান। বৈঠকের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানায়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের কাছে বিক্রি হতে পারে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান পুরনো নৌবহর আপগ্রেড ও বিমান নজরদারি বৃদ্ধির জন্য বিমান প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম একীকরণে সহায়তা চেয়েছেন। ৬ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়েছে যে, প্রশিক্ষণ বিমান সুপার মুশশাক দ্রুত সরবরাহ করা হবে। জেএফ-১৭ থান্ডারের সম্ভাব্য ক্রয় সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে।
জেএফ-১৭ থান্ডার কি এবং কেন জনপ্রিয়
জেএফ-১৭ থান্ডার হলো হালকা, বহুমুখী যুদ্ধবিমান। পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এটি তৈরি।
-
প্রথম উন্মোচন: ২০০৭
-
প্রাথমিক ভেরিয়েন্ট ব্লক ১: ২০০৯
-
সর্বোচ্চ উন্নত ব্লক-৩ ভেরিয়েন্ট: ২০২০
-
ক্ষমতা: আকাশ থেকে আকাশ, আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র বহন, উন্নত এভিওনিক্স ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা।
অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডরদের মতে, এটি মধ্যম শক্তির জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প, কারণ:
-
ব্যয়-কার্যকারিতা বেশি
-
রক্ষণাবেক্ষণ কম
-
অস্ত্র বহন ও ব্যবহার সহজ
-
প্রশিক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশের সুবিধা
মূল্য প্রায় ২৫–৩০ মিলিয়ন ডলার, যা পশ্চিমা ও রাশিয়ান জেটের তুলনায় কম। উদাহরণস্বরূপ, রাফালে জেটের দাম ৯০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
আন্তর্জাতিক বাজারে জেএফ-১৭
-
মিয়ানমার: প্রথম ক্রেতা, ২০১৫ সালে ১৬টি ব্লক ২ বিমান অর্ডার।
-
নাইজেরিয়া: ২০২১ সালে ৩টি জেট যুক্ত।
-
আজারবাইজান: ২০২৪ সালে ১৬টি জেট অর্ডার।
-
লিবিয়া ও সৌদি আরব: বড় চুক্তি বা আলোচনা চলমান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের ফলাফল জেটটির আবেদন বাড়িয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, সংঘর্ষে তাদের জেট অনেক ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করেছে।
জেএফ-১৭ বনাম অন্যান্য যুদ্ধবিমান
-
পঞ্চম প্রজন্মের জেট: এফ-২২, এফ-৩৫, চীনের জে-২০, জে-৩৫, রাশিয়ার এসইউ-৫৭
-
৪.৫ প্রজন্মের জেট: জেএফ-১৭ থান্ডার, সুইডিশ গ্রিপেন, ফ্রান্সের রাফায়েল, ইউরোফাইটার টাইফুন
-
মূল পার্থক্য: স্টিলথ ক্ষমতা সীমিত; কম দাম, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণে সুবিধাজনক।
বাংলাদেশ কেন আগ্রহী
বাংলাদেশ ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক পুনঃমূল্যায়ন করেছে।
-
জেএফ-১৭ বা সুপার মুশশাক ক্রয় কেবল বিমান নয়, দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক।
-
বিমান ও বিক্রয়োত্তর পরিষেবার মাধ্যমে ৩–৪ দশক পর্যন্ত ব্যবহার নিশ্চিত।
-
চীনের জে-১০ বিমানেও আগ্রহ থাকার কারণে ভবিষ্যতের কৌশলগত নির্বাচন স্পষ্ট।
বিশেষ বিশ্লেষক মন্তব্য
-
যুদ্ধের ফলাফল কেবল বিমানের ওপর নয়, পাইলট ও সমন্বয় ব্যবস্থার দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।
-
সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশগুলোর জন্য জেএফ-১৭ সাশ্রয়ী ও কার্যকরী বিকল্প।
-
পাকিস্তান নিজের সামরিক সফলতাকে প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে কাজে লাগাচ্ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।