মহান স্বাধীনতা দিবস আজ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৪
আজ (২৬ মার্চ) পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন, যখন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি গড়ে তোলে সশস্ত্র প্রতিরোধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অর্জিত হয় স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা।
এ বছর স্বাধীনতার ৫৬তম বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনা। কিন্তু বাঙালি জাতি দমে যায়নি। সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে প্রতিরোধ। নয় মাসের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের মধ্য দিয়ে আসে ১৬ ডিসেম্বরের চূড়ান্ত বিজয়—জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী-
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ জাতিকে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা জোগায়। তিনি সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
দিবসটি ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও বিদেশি কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাজধানীসহ সারা দেশে আয়োজন করা হয়েছে কুচকাওয়াজ, প্রদর্শনী, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সিনেমা হলে বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। জাদুঘরগুলোও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু অতীতের গৌরব স্মরণের দিন নয়, বরং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকারের দিন। জাতির এই মহান অর্জনকে অর্থবহ করতে প্রয়োজন ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়া।
আজকের দিনে স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই দেশের জনগণের অঙ্গীকার।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।