বৃহঃস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন

তেল-শূন্য হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এখন ৩৩ দিনে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী অবস্থায় পৌঁছেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম তেল-শূন্য দেশ হতে পারে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশটি মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বহু মোটরসাইকেলচালক ও পরিবহনকর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ তেল সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

এই সংকটের মূল কারণ হলো হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত এই রুটে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ কখন শেষ হবে বা প্রণালি পুনরায় খুলবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সরকার ইতোমধ্যেই জ্বালানি রেশনিং চালু করার পরিকল্পনা করেছে। ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপও বিবেচনা করা হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের সময় সাময়িকভাবে কিছু শিথিলতা থাকলেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে মজুত অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ খুবই সীমিত; মাত্র দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব। ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত কমছে। মার্চের হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলের মজুত মাত্র ৯ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারছিল।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করার চেষ্টা করছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধও করা হয়েছে।

সরকার দাবি করছে, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। তবে সারাদেশে বাস্তব চিত্র ভিন্ন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top