কোচিং-নোট গাইড বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪১

সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, কোচিং ও নোট-গাইড নির্ভরতা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন, আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘শিক্ষা বাজেট : বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলাম এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে শিশুরা খেলতে খেলতে এবং গল্পের মাধ্যমে শিখতে পারে। তবে এই পরিবর্তন হঠাৎ করে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর বিষয়ে তিনি বাস্তব সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলে নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় প্রযুক্তি সরঞ্জাম সংরক্ষণে ঝুঁকি রয়েছে। তাই অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না করে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা চালু করা কার্যকর হবে না।

এছাড়া বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং তা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। গণসাক্ষরতা অভিযান-এর পক্ষ থেকে ২১ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রতিমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়, যা ঢাকা ও প্রান্তিক অঞ্চলের প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত ২.৫ শতাংশ বা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা উচিত। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই হার ধাপে ধাপে ৬ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।

বাজেট ঘাটতি পূরণে করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) তহবিলের একটি অংশ ব্যবহার এবং ‘এডুকেশন সেস’ চালুর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ভারত-এর শিক্ষা সেস ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়, যার মাধ্যমে সেখানে উল্লেখযোগ্য শিক্ষা তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top