শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

বরফে ঢাকা বিশাল দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড: ১০ অজানা দিক

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৯

ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পর বিশ্বরাজনীতিতে আলোচিত হয়েছে গ্রিনল্যান্ড। বরফে ঢাকা এই বিশাল দ্বীপকে ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে অনেকেরই। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড লুকিয়ে রেখেছে সাড়ে চার হাজার বছরের মানব ইতিহাস, নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতি, আলাদা জীবনযাপন ও অজানা বাস্তবতা। বরফের আড়ালের এই দেশের ১০টি দিক তুলে ধরা হলো ছবির গল্পে।

১. বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ

গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এর আয়তন প্রায় ২১ লাখ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার, যার ৮০ শতাংশ বরফে ঢাকা। বরফ ছাড়া অংশের আয়তনও কম নয়, যা সুইডেনের সমান। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার, তাই এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম জনঘনত্বের জায়গাগুলোর মধ্যে একটি।

২. একসময় সত্যিই সবুজ ছিল গ্রিনল্যান্ড

আজকের গ্রিনল্যান্ড বরফে মোড়া হলেও নামের মধ্যে ‘গ্রিন’ বা সবুজ এল কোথা থেকে? নামকরণের কৃতিত্ব ভাইকিং নেতা এরিক দ্য রেডের। তিনি আইসল্যান্ড থেকে নির্বাসিত হয়ে এসে নতুন বসতি গড়ে তুলতে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য নাম দেন ‘গ্রিনল্যান্ড’। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ২৫ লাখ বছর আগে গ্রিনল্যান্ড সত্যিই সবুজ ছিল। বরফের নিচে প্রাচীন মাটি চাপা রয়েছে।

৩. স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ। ভৌগোলিকভাবে এটি উত্তর আমেরিকার অংশ হলেও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত প্রায় এক হাজার বছর ধরে। ১৭২১ সালে ডেনমার্ক এখানে উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৯৫৩ সালে ডেনমার্কের অংশ হয়। ১৯৭৯ সালে ‘হোম রুল’ এবং ২০০৯ সালে ‘সেলফ রুল’ পায় গ্রিনল্যান্ড।

৪. সাড়ে চার হাজার বছরের মানব ইতিহাস

ইতিহাসবিদদের মতে, গ্রিনল্যান্ডে মানুষের বসতি শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ সালের দিকে। ১০ম শতকে আইসল্যান্ড থেকে নর্সরা দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে বসতি গড়ে, তবে ১৫শ শতকের শেষের দিকে বিলুপ্ত হয়। ১৩শ শতকে এশিয়া থেকে আসা ইনুইটরা স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে। আজকের ইনুইটরা তাঁদের সরাসরি বংশধর।

৫. ‘এস্কিমো’ নয়, ইনুইট

গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮৮% মানুষ ইনুইট, অধিকাংশই কালাল্লিত বা ডেনিশ-ইনুইট মিশ্র। বাকি ১২% মূলত ইউরোপীয়, বেশির ভাগই ডেনিশ। স্থানীয়রা ‘এস্কিমো’ শব্দটি পছন্দ করেন না। সঠিক নাম ইনুইট বা কালাল্লিত, যার অর্থ গ্রিনল্যান্ডের মানুষ।

৬. বহু ভাষার দেশ

গ্রিনল্যান্ডিক (কালাল্লিসুত) ও ডেনিশ—এই দুই ভাষাতেই সাধারণ মানুষ কথা বলে। ১৯৭৯ সালের স্বায়ত্তশাসনের পর থেকে সরকারি কাজে এই দুই ভাষা ব্যবহৃত হয়। নতুন প্রজন্ম ইংরেজিও শেখে। ‘কায়াক’ ও ‘ইগলু’ শব্দ দুটি গ্রিনল্যান্ডিক ভাষা থেকেই বিশ্বের অন্য ভাষায় ছড়িয়ে গেছে।

৭. শহর থেকে শহরে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই

গ্রিনল্যান্ডের বিশাল ভূখণ্ডে শহরের মধ্যে কিছু রাস্তা থাকলেও শহরগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। শহর থেকে শহরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয় প্লেন, নৌকা, হেলিকপ্টার, স্নোমোবাইল বা কুকুরের টানা স্লেজ। গ্রীষ্মে নৌকা সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহন।

৮. মাছ ধরা ও তিমি শিকার

গ্রিনল্যান্ডের প্রধান আয়ের উৎস মৎস্যশিল্প। মাছ, সামুদ্রিক খাবার ও স্থানীয়ভাবে শিকার করা প্রাণী (যেমন তিমি ও সিল) ছাড়া প্রায় সবকিছুই আমদানি করতে হয়। অতিরিক্ত শিকার ঠেকাতে নির্দিষ্ট কোটা রয়েছে। কিছু প্রজাতি যেমন নীল তিমি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

৯. প্রাণবন্ত রাজধানী নুক

মোট জনসংখ্যার প্রায় চারভাগের এক ভাগ বসবাস করে রাজধানী নুকে। আকারে ছোট হলেও শহরটি প্রাণবন্ত। আছে জাদুঘর, আধুনিক ক্যাফে, ফ্যাশন বুটিক। ন্যাশনাল মিউজিয়াম, কাটুয়াক কালচারাল হাউস ও নুক আর্ট মিউজিয়াম দর্শনীয়। সমুদ্র খাঁড়ি ও বিশাল ফিয়র্ডে ঘেরা শহরটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য চমৎকার।

১০. মধ্যরাতের সূর্য

প্রতিবছর ২৫ মে থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডে সূর্য অস্ত যায় না। এই ‘মিডনাইট সান’ চলাকালীন সময় মানুষ রোদ পোহায়, প্রকৃতির মাঝে বারবিকিউ করে। ২১ জুন গ্রিনল্যান্ডে সবচেয়ে বড় দিন হিসেবে জাতীয় ছুটি।

সূত্র: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top