বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

সামোয়া: শান্তি, সৌন্দর্য ও আতিথেয়তার দেশ — নাজমুন নাহারের চোখে

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৫

ছবি: সংগৃহীত

দেশে দেশে অনেক প্রিয় জায়গা আছে। চিলির আতাকামা মরুভূমি, পেরুর মাচু পিচু যেমন প্রিয়, তেমনি প্রিয় আমার প্রথম বিদেশ ভারতের রাজস্থান, কলকাতা বা নামিবিয়ার সোয়াকপমুন্ড। ইউরোপের আইসল্যান্ড থেকে দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলাও আমার প্রিয় দেশ। তবে গত বছর থেকে সব প্রিয় জায়গাকে পেছনে ফেলেছে সামোয়া। দেশটা একদম মনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। মনে হয়েছে, এই দেশ দেখব বলেই হয়তো এক দেশ থেকে আরেক দেশ অন্বেষণ করে বেড়িয়েছি।” — নাজমুন নাহার

কেন সামোয়া এত পছন্দ

নাজমুন নাহার ২০২৫ সালের জুনে সামোয়া ভ্রমণ করেন। দেশে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরে ভিসার সুবিধা পান বাংলাদেশিরা। ১৭ দিন কাটান প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপদেশটির রাজধানী আপিয়া ও বিভিন্ন গ্রামে।

সামোয়ার কিছু তথ্য: স্বাধীনতা: ১৯৬২, নিউজিল্যান্ড থেকে , আয়তন: ২,৮৩১ বর্গকিলোমিটার , জনসংখ্যা: প্রায় ২ লাখ,  অর্থনীতি: কৃষি, পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল

নাজমুন বলেন, “শহরের ভিড় নেই, অতিরিক্ত পর্যটকের হইচই নেই। অতিথিপরায়ণ মানুষ সব সময় হেসে কথা বলেন। সেখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়েছে, জীবন অনেক শান্তিময় ও সুন্দর। জীবনে যখন অবসর আসবে, সম্ভব হলে একটা ঘর বানিয়ে সামোয়ায় গিয়ে বাস করব।”

কানে ফুল পরার অর্থ

সামোয়ার গ্রামে ঘুরে নাজমুন নাহার দেখেছেন, স্থানীয় মেয়েরা কানে ফুল গুঁজে রাখেন। নারীরা সাধারণত ডান কানে ফুল গুঁজলে বোঝায় অবিবাহিত আর বাঁ কানে গুঁজলে বোঝায় বিবাহিত বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা রেড জিঞ্জার ফুল বা টেউইলা ব্যবহার করেন, যা সামোয়ার জাতীয় ফুল।

নাজমুন বলেন, “আমি সিঙ্গেল শুনে আমার ডান কানে একটি ফুল গুঁজে দিয়েছিলেন তাঁরা। তারপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। চারদিকে পোকামাকড়ের ডাক, যেন গভীর জঙ্গলে আছি। নিবু নিবু আলোতে পালুসামি খেলাম। নারকেলপাতায় মোড়া খাবারটির স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে।”

আরও কিছু অভিজ্ঞতা

নাজমুন নাহার সামোয়ার উপোলু দ্বীপের লালোমানু গ্রাম সহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরেছেন। তিনি প্রশংসা করেন গ্রামের পরিচ্ছন্নতা, “সব বাড়ির সামনে ময়লা ফেলার পাত্র থাকে। প্রতি সপ্তাহে একবার গ্রামবদ্ধভাবে পরিষ্কার করা হয়। পরিচ্ছন্নতা তাদের জীবনের অংশ।”

২০০৯ সালের সুনামির ক্ষত এখনো মানুষের মনে থেকে গেছে, কিন্তু তাদের দৃঢ়তা ও পুনর্গঠনের শক্তি প্রমাণ করে, সামোয়ার মানুষ কতটা আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top