মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বিদায় ঘন্টা বাজছে, বেসরকারি মহাকাশ স্টেশন এখনও প্রস্তুত নয়

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৪

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মহাকাশচারীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) বিদায়ের পথে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে, ২০৩০ সালের মধ্যে আইএসএসের কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বিকল্প কোনো বেসরকারি মহাকাশ স্টেশন এখনও তৈরি হয়নি। পরিকল্পনা ও নিয়মাবলির প্রকাশে বিলম্বের কারণে পরবর্তী প্রজন্মের মহাকাশ স্টেশন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি।

নাসার মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশচারীদের জন্য লো-আর্থ অরবিটে (LEO) নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এই দৌড়ে বর্তমানে চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে—ভয়েজার টেকনোলজিস, অ্যাক্সিওম স্পেস, ব্লু অরিজিন ও ভাস্ট স্পেস। চলতি বছরের শেষের দিকে নাসা তাদের মধ্য থেকে এক বা দুটি কোম্পানিকে বড় চুক্তির জন্য বেছে নিতে পারে।

তবে আইএসএসের আয়ু মাত্র পাঁচ বছর বাকি থাকলেও নাসা এখনো বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনের বিস্তারিত কারিগরি নিয়মাবলি চূড়ান্ত করেনি। এতে বেসরকারি সংস্থাগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ভাস্ট স্পেস দাবি করছে, তারা ছোট মহাকাশ স্টেশন হেভেন-১ তৈরির কাজে জোরদারভাবে এগোচ্ছে। মূলত স্বল্পমেয়াদি মিশনের জন্য নকশা করা এই স্টেশন ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভাস্ট স্পেসের প্রধান নির্বাহী ম্যাক্স হাফট জানিয়েছেন, হেভেন-১-এর মূল কাঠামো ইতিমধ্যে তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হয়েছে।

উৎক্ষেপণের পর এটি প্রথমে মানুষ ছাড়াই মহাকাশে উড়বে এবং পৃথিবী থেকে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তীতে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে নভোচারীদের সেখানে পাঠানো হবে। স্টেশনটি প্রাথমিকভাবে প্রায় তিন বছর সক্রিয় থাকবে এবং দুই সপ্তাহের স্বল্পমেয়াদি মিশন পরিচালিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাসা যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে আইএসএসের অবসর এবং নতুন স্টেশনের কার্যক্রম শুরুর মধ্যকার শূন্যস্থান বৈজ্ঞানিক গবেষণা ব্যাহত করতে পারে। এছাড়া মহাকাশে পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আইএসএসকে আরও কিছুদিন টিকিয়ে রাখা হবে, নাকি বেসরকারি খাতের ওপর দ্রুত নির্ভর করা হবে—আগামী কয়েক মাসে সেই চূড়ান্ত পথরেখা জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও বিবিসি



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top