বৃহঃস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরানি জাহাজ জব্দ: চীনের সম্পৃক্ততার অভিযোগে নতুন বিতর্ক

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২৪

ছবি: সংগৃহীত

ওমান উপসাগরে সম্প্রতি একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাহাজটিতে চীনের পাঠানো “উপহার” ছিল। তবে বেইজিং সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

ট্রাম্পের দাবি, জাহাজটি ইরানের জন্য চীন থেকে পাঠানো বিশেষ ধরনের পণ্য বহন করছিল, যা ভালো কোনো উদ্দেশ্যে নয়। একই ধরনের অভিযোগ আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিনিধিও করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন রাসায়নিক ছিল।

তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, এটি একটি সাধারণ বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ। এর সঙ্গে চীনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প আরও দাবি করেছিলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ইরানে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করা হবে না। তবে সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, গত রোববার ওমান উপসাগরে “তুসকা” নামের একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করা হয়। জাহাজটির ওপর আগে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে এমন কিছু পণ্য ছিল যা বেসামরিক শিল্পের পাশাপাশি সামরিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এসবকে সাধারণভাবে “দ্বৈত ব্যবহার উপযোগী” সরঞ্জাম বলা হয়।

সূত্রগুলো জানায়, তালিকায় ধাতব অংশ, পাইপ, ও বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ছিল। তবে পুরো পণ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি চীনের বিভিন্ন বন্দরে অবস্থান করে পরে মালয়েশিয়া হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে অগ্রসর হয়।

ইরান এই জাহাজ জব্দকে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত নাবিকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে এবং ঘটনাটিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে।

তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এ ঘটনার জন্য ওয়াশিংটনকে দায় নিতে হবে এবং এর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top