চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল উৎসবে রিয়াল, মোনাকোকে উড়িয়ে দিল ৬–১
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৩
সময়টা ভালো যাচ্ছিল না রিয়াল মাদ্রিদের। ধারাবাহিক হতাশাজনক ফল, কোপা দেল রে থেকে বিদায় এবং সুপার কাপের ফাইনালে হার—সব মিলিয়ে বাড়ছিল চাপ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়েও শুনতে হয়েছে সমর্থকদের দুয়ো। ঠিক সেই পরিস্থিতিতেই নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিল লস ব্লাঙ্কোরা। মোনাকোকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৬–১ গোলের বড় ব্যবধানে।
ম্যাচের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিউস জুনিয়র। এমবাপ্পে জোড়া গোল করেছেন, ভিনিসিউস একটি গোলের পাশাপাশি করেছেন দুটি অ্যাসিস্ট। অন্য গোলগুলো আসে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও জুড বেলিংহ্যামের পা থেকে। একটি গোল হয় মোনাকোর আত্মঘাতী ভুলে। এই জয়ে সাত ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে উঠে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ২০ নম্বরে রয়েছে মোনাকো।
শুরুর ধাক্কাতেই পিছিয়ে পড়ে মোনাকো
বের্নাবেউয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল রিয়াল। মাত্র ৫ মিনিটেই ডান দিকের আক্রমণে ফেদেরিকো ভালভের্দের ছোট পাস পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।
২৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ভিনিসিউসের দারুণ অবদানে আবারও স্কোরশিটে নাম লেখান ফরাসি তারকা। ডি-বক্সে ঢুকে ভিনিসিউস ডান দিকে বল বাড়িয়ে দেন, প্লেসিং শটে জাল কাঁপান এমবাপ্পে।
প্রতিরোধের চেষ্টা, কোর্তোয়ার দৃঢ়তা
মোনাকোও সুযোগ তৈরি করেছিল। ৩১ মিনিটে জর্ডান টেজের দূরপাল্লার শক্তিশালী শট আঘাত হানে ক্রসবারে। এরপরও থিবো কোর্তোয়ার একাধিক দুর্দান্ত সেভে বড় বিপদ এড়ায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে একতরফা আধিপত্য
দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই ব্যবধান বাড়াতে শুরু করে স্বাগতিকরা।
৫১ মিনিটে ভিনিসিউসের বাড়ানো বলে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোল করেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। তিন মিনিট পর ভিনিসিউসের কাটব্যাক ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠান মোনাকোর ডিফেন্ডার টিলো কেহরার।
৬৩ মিনিটে এবার নিজেই গোল করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। ডি-বক্সে জায়গা তৈরি করে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান তিনি।
ভুলে এক গোল, শেষ কথা বেলিংহ্যামের
৭২ মিনিটে রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলে একটি গোল শোধ দেয় মোনাকো। কোর্তোয়ার ছোট পাস বুঝতে না পেরে দানি সেবাইয়োস বল ছেড়ে দিলে সুযোগ পেয়ে জর্ডান টেজে গোল করেন।
তবে ম্যাচের শেষ কথা বলেন জুড বেলিংহ্যাম। ৮০ মিনিটে ভালভের্দের থ্রু পাসে জায়গা করে নিয়ে করেন রিয়ালের ষষ্ঠ গোল।
ছন্দে ফেরার বার্তা
পরিসংখ্যানে দুই দলের আক্রমণ ও শট ছিল প্রায় কাছাকাছি। তবে রিয়ালের নিখুঁত ফিনিশিং এবং ভিনিসিউস–এমবাপ্পের ধারই গড়ে দেয় ব্যবধান। সমালোচনার চাপের মধ্যেই বড় এই জয় রিয়াল মাদ্রিদের ছন্দে ফেরার জোরালো বার্তা দিল।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।