মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২

ভেনেজুয়েলা অভিযান ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-এর অগ্রগতি, নতুন ‘ডনরো মতবাদ’ ব্যাখ্যা করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৯

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযান তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে আরও এগিয়ে নিয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে যে পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার আধিপত্য আর কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। তার ভাষায়, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান ও নেতৃত্বের বার্তা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলায় নেওয়া পদক্ষেপ ঐতিহাসিক ‘মনরো মতবাদ’-এর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তবে তিনি এই নীতিকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে একে ‘ডনরো মতবাদ’ নামে অভিহিত করেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ডনরো’ নামটি এসেছে ডোনাল্ড (Donald) এবং মনরো (Monroe) শব্দের সংমিশ্রণে। মনরো মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো, যিনি ১৮২৩ সালে এই পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণা করেন।

তৎকালীন মনরো মতবাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির বিস্তার রোধ করা। এর মূল বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় ইউরোপীয় হস্তক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে গণ্য করা হতো। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

পরবর্তীতে ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট এই মতবাদকে আরও সম্প্রসারিত করেন। তিনি ঘোষণা দেন, লাতিন আমেরিকার কোনো দেশ যদি রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বৈধ বলে বিবেচিত হবে।

এর ফলে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও আধিপত্য আরও দৃঢ় হয়। এই নীতির আওতায় পরবর্তী দুই দশকে হাইতি, নিকারাগুয়া ও ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে একাধিকবার মার্কিন হস্তক্ষেপ দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ঘোষিত ‘ডনরো মতবাদ’ মূলত মনরো মতবাদের আধুনিক ও কঠোর রূপ। এটি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার একটি কৌশল, যেখানে লাতিন আমেরিকার রাজনীতি ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই নীতির আওতায় অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় অন্য পরাশক্তিগুলোর প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top