মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

ইরানে সরকারপন্থী লাখো মানুষের মিছিল, বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রাজপথে জনসমাগম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৭

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অর্থনীতির বিপর্যয়ের প্রতিবাদে টানা সরকারবিরোধী ও সহিংস বিক্ষোভের পর এবার দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারের পক্ষে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে লাখো মানুষ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সমর্থনে বিপুল জনসমাগম হয়েছে দেশটির নানা শহরে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, কেরমান, জাহেদানসহ বিভিন্ন শহরের মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা ও আয়াতুল্লাহ খামেনীর ছবি। কেরমানের রাস্তায় মিছিলরত জনতাকে ‘আমেরিকার পতন হোক’—এমন স্লোগান দিতেও শোনা যায়। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা সোমবার দেশজুড়ে শাসকগোষ্ঠীর সমর্থনে এই মিছিলের ডাক দেয়।

গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকটকেন্দ্রিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো। পূর্বাঞ্চলীয় শহর বিরজান্দে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রচারিত ফুটেজে জনতাকে ‘আমাদের জাতি জেগে উঠেছে এবং দাঙ্গাবাজদের ঘৃণা করে’ ও ‘আমরা বিপ্লবী সৈনিক, আমরা ফেতনাবাজদের ঘৃণা করি’—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, মধ্য ইরানের শহর আরাকে এক সমাবেশে মাইক্রোফোনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একজন বক্তা বলেন, ‘সবারই সমস্যা আছে, কিন্তু আমরা বিদেশিদের হাতে নিজের ভাগ্যের সিদ্ধান্ত তুলে দিই না। আমরা আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাতে দাবার চাল তুলে দিই না।’

এদিকে, চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার তিনি বলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের পর বর্তমানে পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে আরাগচি অভিযোগ করেন, শুরুতে অহিংস আন্দোলন থাকলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংস ও রক্তক্ষয়ী রূপ দেওয়া হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হস্তক্ষেপের অজুহাত পান। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও অনুমতি নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তার বক্তব্য সম্প্রচার করে।

আরাগচি আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের পথও খোলা রেখেছি।’
এর আগে তিনি চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি ভবন, পুলিশ স্টেশন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার নির্দেশসংবলিত অডিও রেকর্ডিং পাওয়ার কথাও দাবি করেন তিনি।

সূত্র: এপি, আল জাজিরা



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top