শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

শান্তি আলোচনায় ফের ইউক্রেন যুদ্ধ, দখল ছাড়তে রাজি নয় রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৩

সংগৃহীত

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শুরু হওয়া এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

তবে শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার অনড় অবস্থান। ক্রেমলিন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আলোচনা চললেও দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

বার্তা সংস্থা দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে মস্কোতে সাত দফা বৈঠকের পর এই আবুধাবি সংলাপের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ইগর কস্ত্যুকভ।

সামরিক গোয়েন্দা প্রধানের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আলোচনার কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমাধানের চেয়ে সামরিক ও কৌশলগত বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। আলোচনায় ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও উপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সংলাপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও রাশিয়ার শর্তগুলো কিয়েভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। আলোচনার ঠিক আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে দনবাস অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সরে যেতে হবে।

এদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইউক্রেনের বর্তমান সরকারকে ‘নাৎসি শাসন’ আখ্যা দিয়ে সেখানে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য কিয়েভ ও মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জার্মানি প্রশ্ন তুলেছে, রাশিয়া আদৌ তাদের সর্বোচ্চ দাবির অবস্থান থেকে সরে আসবে কি না। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া রাশিয়ার শর্ত মেনে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে মস্কো নতুন করে হামলার সুযোগ পেতে পারে।

অন্যদিকে তীব্র শীতের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে চরম সংকটে থাকা ইউক্রেন এখন শান্তি আলোচনা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top