বৃহঃস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

পানির নিচে ক্ষেপণাস্ত্র টানেলের নেটওয়ার্ক উন্মোচন ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩০

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পানির নিচে ক্ষেপণাস্ত্র টানেলের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উন্মোচন করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আর নিরাপদ থাকবে না। দ্য নিউ আরব বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে একটি বিশাল সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ভেতরে দেখা যায়। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল বহু দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা যে কোনো সময় নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আলিরেজা তাংসিরি জানান, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর মোকাবিলায় সমুদ্রের নিচে এই ক্ষেপণাস্ত্র টানেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। তার দাবি, এসব টানেলে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার শত শত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি বলেন, আইআরজিসি নৌবাহিনী নির্মিত ‘কাদের-৩৮০ এল’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। এতে রয়েছে আধুনিক স্মার্ট গাইডেন্স সিস্টেম, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না করা পর্যন্ত তা ট্র্যাক করতে সক্ষম।

তাংসিরি আরও বলেন, “আমাদের সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যে কোনো হুমকির মোকাবিলায়, যে কোনো মাত্রায় এবং যে কোনো ভূগোলেই ইরানি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘোষণার পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করারও প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ৩৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, আকাশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং পানির নিচ—সব ক্ষেত্রেই হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তার ভাষায়, এই প্রণালির নিরাপত্তা তেহরানে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে।

ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে আকবরজাদেহ জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম ইরান। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোকে বন্ধু হিসেবে দেখা হলেও, যদি তাদের আকাশসীমা, ভূমি বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top