রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

থাইল্যান্ডে আজ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৭

সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন। এ গণভোটে ২০১৭ সালে সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভূমজাইথাই পার্টিকে রাজতন্ত্র ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়। এই গোষ্ঠীগুলোর কাছে দলটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী হন অনুতিন চার্নভিরাকুল। এর আগে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক যথাযথভাবে পরিচালনা না করার অভিযোগে নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে পেতংতার্নকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে অনুতিন অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে সংসদ ভেঙে দিয়ে ডিসেম্বরে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

নির্বাচনী প্রচারে অনুতিন অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে এনেছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী আবেগকে তিনি প্রচারণায় কাজে লাগিয়েছেন।

নির্বাচনে তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে পেউ থাই পার্টি। দলটি কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা সমর্থিত রাজনৈতিক ধারার সর্বশেষ রূপ হিসেবে পরিচিত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা থাই রাক থাই পার্টির জনকল্যাণমূলক ও জনপ্রিয় নীতির উত্তরাধিকার দাবি করে দলটি।

পেউ থাই পার্টি অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও নগদ সহায়তার মতো জনতাবাদী প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। দলটি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াতকে মনোনয়ন দিয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটে ২০১৭ সালে সামরিক শাসনামলে প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না, সে বিষয়ে জনগণের মতামত চাওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর দাবি, নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হলে সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো নির্বাচিত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

তবে রক্ষণশীলদের আশঙ্কা, সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top