৩০ বছরের কলঙ্কমুক্তির খবরে মৃত্যুবরণ করলেন বাবুভাই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:১৯
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অপবাদ নিয়ে সংগ্রাম করা আহমেদাবাদ পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতি অবশেষে গুজরাট হাইকোর্ট থেকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আনন্দের মুহূর্তে বাবুভাই আর পৃথিবীর দেখার সুযোগ পাননি। আদালতের রায়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
বাবুভাই প্রজাপতির একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিজের নামের কলঙ্ক মুছে ফেলা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্ট রায় ঘোষণার পর তিনি বলেছিলেন, “আমার জীবন থেকে কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন ঈশ্বর আমাকে নিয়ে নিলেও কোনো দুঃখ নেই।” তবে, সেই ভবিষ্যদ্বাণীমূলক কথাই পরের দিন সত্যি হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনার শুরু ১৯৯৬ সালে। আহমেদাবাদে কর্মরত বাবুভাই প্রজাপতির বিরুদ্ধে ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের হয়। ১৯৯৭ সালে চার্জশিট দাখিল হয় এবং ২০০২ সালে বিচার শুরু হয়। নিম্ন আদালত ২০০৪ সালে তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
বাবুভাই নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং দীর্ঘ ২২ বছর ধরে উচ্চ আদালতে লড়াই চালিয়ে যান। অবশেষে গুজরাট হাইকোর্ট মঙ্গলবার রায় দেন যে, সাক্ষীদের বয়ানে মারাত্মক অসংগতি রয়েছে এবং প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।
আইনজীবী নিতিন গান্ধী জানান, রায়ের দিন বাবুভাই অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন এবং সরকারের কাছ থেকে বকেয়া সুবিধার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক ছিলেন। তিনি বলেন, “পরদিন বাবুভাইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন।” চিকিৎসকেরা বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদরোগে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন।
বাবুভাই প্রজাপতির জীবন দীর্ঘ আইনি লড়াই, সামাজিক কলঙ্ক এবং অবসাদে ভরা ছিল। কিন্তু শেষমেষ, তিনি মৃত্যুর আগে নিজের সম্মান ফিরিয়ে পেতে পেরেছিলেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
এনএফ৭১ /ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।