বৃহঃস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

চীনা বাহিনীকে গোপনে প্রশিক্ষণ: মার্কিন যুদ্ধবিমানের সাবেক পাইলট গ্রেফতার

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৬

ছবি: সংগৃহীত

চীনের সামরিক পাইলটদের অবৈধভাবে গোপনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর (ইউএস এয়ার ফোর্স) এক সাবেক কর্মকর্তা ও ‘এলিট ফাইটার পাইলট’কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার সাবেক এয়ার ফোর্স মেজর জেরাল্ড ব্রাউনকে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারি অনুমোদন ছাড়া চীনা সামরিক পাইলটদের প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং এ বিষয়ে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

৬৫ বছর বয়সী জেরাল্ড ব্রাউন একসময় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ–৩৫ লাইটনিং টু-এর প্রশিক্ষক পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমানবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি ‘রানার’ কল সাইন নামেও পরিচিত ছিলেন।

মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাউন্টারইন্টেলিজেন্স ও এস্পিওনাজ ডিভিশনের সহকারী পরিচালক রোমান রোজাভস্কি এক বিবৃতিতে বলেন,
“ব্রাউন তার দেশের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। যাদের সুরক্ষার শপথ তিনি নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই লড়াই করার জন্য তিনি চীনা পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “চীনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই গ্রেফতার তাদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।”

ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন ফেরিস পিরো বলেন,
“ব্রাউন এবং যারা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে—তাদের সবাইকে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

বিচার বিভাগের তথ্যমতে, জেরাল্ড ব্রাউন টানা ২৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধিক যুদ্ধ মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপ–সংক্রান্ত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি ‘সংবেদনশীল ইউনিট’-এর কমান্ডার হিসেবেও কাজ করেছেন।

১৯৯৬ সালে সামরিক বাহিনী ছাড়ার পর তিনি প্রথমে বাণিজ্যিক কার্গো পাইলট হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা ঠিকাদার হিসেবে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটদের এফ–৩৫ ও এ–১০ যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেন।

বিচার বিভাগের অভিযোগে বলা হয়, ব্রাউন ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনে যান এবং সেখানে চীনা সামরিক পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসা পর্যন্ত চীনেই অবস্থান করেন।

এই প্রশিক্ষণ চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেন চীনা নাগরিক স্টিফেন সু বিন। তিনি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার মাধ্যমে সামরিক গোপন তথ্য চুরির ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হন এবং চার বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন।

বিচার বিভাগ জানায়, ব্রাউনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সাবেক মার্কিন মেরিন কর্পস পাইলট ড্যানিয়েল ডাগান–এর মামলার সঙ্গে মিল রয়েছে। ডাগানকে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেফতার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডাগানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চীনা সশস্ত্র বাহিনীকে পাইলট প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ৫৭ বছর বয়সী এই পাইলট ২০১৪ সাল থেকে চীনে বসবাস করছিলেন। ২০২২ সালে চীন থেকে ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে একটি সতর্কবার্তা জারি করে। সেখানে বলা হয়, চীন সক্রিয়ভাবে পশ্চিমা দেশগুলোর বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যদের—এমনকি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনাদেরও—নিয়োগের চেষ্টা করছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়,
“পশ্চিমা সামরিক প্রতিভা থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি। কোনও বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অনুমোদন ছাড়া প্রশিক্ষণ বা বিশেষজ্ঞ সেবা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেসামরিক ও ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

সূত্র: আল-জাজিরা



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top