ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, লাখ লাখ মানুষ রাস্তায়
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৬:২৫
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিমালার বিরুদ্ধে আবারও শুরু হয়েছে বিশাল বিক্ষোভ। 'নো কিংস' শিরোনামের এই বিক্ষোভ এবার তৃতীয় দফা, যেখানে আগেরবার কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নিয়েছিল।
আয়োজকরা জানান, ইরানে যুদ্ধ, কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন কার্যকর, এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তাদের ভাষ্য, “ট্রাম্প আমাদের ওপর স্বৈরশাসকের মতো শাসন করতে চান, কিন্তু আমেরিকায় ক্ষমতার মালিক জনগণ।”
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বিক্ষোভকে 'ট্রাম্প ডের্যাঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন' আখ্যা দিয়েছেন এবং সাংবাদিকদের ওপর উপহাস করেছেন।
গত শনিবার ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ দেশের বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াশিংটন ডিসি: লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে অবস্থান ও ন্যাশনাল মল এলাকায় জনসমাগম। মিনেসোটা: সেন্ট পলে স্টেট ক্যাপিটলের সামনে ডেমোক্র্যাট নেতারা অংশ নেন। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন গান পরিবেশন করেন। নিউ ইয়র্ক সিটি: টাইমস স্কোয়ারে হাজার হাজার মানুষ সমবেত, ম্যানহাটনের ব্যস্ত রাস্তাগুলো বন্ধ।
লস অ্যাঞ্জেলেস: এক হাজার দাঙ্গাকারী রয়্যাল ফেডারেল বিল্ডিং ঘেরাও করে সিমেন্টের ব্লক ছুঁড়ে হামলা চালায়; দুই কর্মকর্তা আহত ও দুজন গ্রেপ্তার। ডালাস: পাল্টা-বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন গ্রেপ্তার।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ভেঙে দিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যের আপত্তি সত্ত্বেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচার করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি নিজেকে রাজা বা স্বৈরশাসক হিসেবে মানতে নারাজ এবং বলেন, “আমি রাজা নই। সংকটাপন্ন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি।” সমালোচকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ অসাংবিধানিক এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, প্যারিস, লন্ডন, লিসবনসহ আন্তর্জাতিক শহরগুলোতেও প্রবাসী মার্কিনিরা বিক্ষোভ করেছেন। ট্রাম্পকে 'ফ্যাসিস্ট' ও 'যুদ্ধাপরাধী' আখ্যা দিয়ে অভিশংসন দাবি করা হয়েছে।
গত অক্টোবরে 'নো কিংস' র্যালিতে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। এবারও শিকাগো, বোস্টন, ন্যাশভিল, হিউস্টনসহ শহরগুলোতে বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।