বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি,‘সুপার’ ঝুঁকিতে বিশ্ব আবহাওয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৭

সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন, চলতি বছরের মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনো তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী হয়ে ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে।

মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা প্রায় ৬১ শতাংশ। সংস্থাটি আরও পূর্বাভাস দিয়েছে, এই পরিস্থিতি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলপ্রবাহের একটি বিশেষ অবস্থা। এর বিপরীতে রয়েছে লা নিনা, যা শীতল জলপ্রবাহের সাথে সম্পর্কিত। এই দুই প্রাকৃতিক চক্র বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, তাই আবহাওয়াবিদরা সবসময় এদের ওপর নজর রাখেন।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রায় ১৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে। সাধারণত কয়েক মাস ধরে সমুদ্রের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বৃদ্ধি পেলে সেই পরিস্থিতিকে সুপার এল নিনো বলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রীষ্মকালে দেশটির মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে টেক্সাস থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে আসন্ন অক্টোবরে খরার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্য এবং অস্ট্রেলিয়াতেও আবহাওয়ার জটিলতা বাড়তে পারে। বছরের শেষ দিকে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে খরার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া আটলান্টিক মহাসাগরের হারিকেন মৌসুমেও এর প্রভাব পড়বে। সাধারণত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই মৌসুমে ঝড়ের সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। তবে বিপরীতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সক্রিয়তা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে পূর্বাভাস নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তাও রয়েছে। ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস জানিয়েছে, বসন্তকালে করা দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস সবসময় পুরোপুরি নির্ভুল হয় না।

সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া, কৃষি ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top