আবারও চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:২০
চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। দুই দিনের বিরতি শেষে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো বন্দরের বহির্নোঙর এলাকাকেও ধর্মঘটের আওতায় আনা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগ্রাম পরিষদের নেতা হুমায়ুন কবির।
সংগ্রাম পরিষদের চার দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবি হলো—ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে অপসারণ।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং সংকট সমাধানের পরিবর্তে বন্দর চেয়ারম্যান পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করে তুলছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বন্দর চেয়ারম্যান আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে সচেতনভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। তাকে অবিলম্বে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, এর আগে ধর্মঘটের সময় বহির্নোঙরের কার্যক্রম চালু থাকলেও রোববার থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতিতে সেখানে কোনো কার্যক্রম চলবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ হারুন, তাসলিম হোসেন, আবুল কাসেম, ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, ইমাম হোসেন খোকন ও শরীফ হোসেন ভুট্টো।
এর আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে গত সপ্তাহে টানা ছয় দিন কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। এতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। তবে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ওই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি দিয়ে আন্দোলনকারী নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু এবং তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেয়।
আন্দোলনের কারণে গত মঙ্গলবার থেকে বন্দরের তিনটি প্রধান স্থাপনা—এনসিটি, চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করেন বন্দর শ্রমিকরা। প্রথম তিন দিন তারা প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে গত মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়।
দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯১ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। টানা ছয় দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী নেতারাও দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।