মাকে গলাকেটে হত্যা, মেয়ে আটক
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:২১
ময়মনসিংহের ভালুকায় রাহিমা খাতুন (৩৬) নামে এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মেয়ে সোমাইয়া আক্তারকে (১৭) আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের গাংগাটিয়াপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত রাহিমা খাতুনের স্বামী বিল্লাল হোসেন সিডস্টোর বাজারে লেপতোষকের ব্যবসা করেন। ঘটনার সময় তিনি বাজারেই ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে রাহিমা খাতুন ও তার মেয়ে রাতের খাবার শেষে একই ঘরের পৃথক দুটি কক্ষে ঘুমাতে যান। পরে কে বা কারা রাহিমাকে গলাকেটে হত্যা করে। এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে কিছুই জানে না বলে পুলিশকে জানালেও তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায়।
সোমাইয়া জানায়, রাতে ঘরের ভেতরে বিড়াল ঢুকলে যেমন শব্দ হয়, তেমন একটি শব্দ সে শুনেছিল। কিছুক্ষণ পর পাশের কক্ষে গিয়ে দেখে তার মায়ের বিছানা রক্তে ভেসে গেছে। গলা কাটার পর রাহিমা বাঁচার আশায় ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় আসেন এবং সেখানেই লুটিয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসীর ধারণা, সোমাইয়ার সঙ্গে এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পরিবার মেনে নেয়নি। এ নিয়ে মা-মেয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কয়েক দিন আগে সোমাইয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব ঘটনার জের ধরেই রাহিমা খুন হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সোমাইয়ার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম রয়েছে এবং তার কথাবার্তা ছিল অসংলগ্ন। এসব কারণে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন,
“খুনের সময় নিহতের মেয়ে পাশের রুমেই ছিল। কিন্তু সে তেমন কিছুই জানে না বলে দাবি করে। তার বক্তব্যে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় আনা হয়েছে। সিআইডি পুলিশের একটি টিম ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
এদিকে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সিআইডি পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট নিহতের মরদেহের আঘাতের চিহ্ন, ঘটনাস্থলের ছবি ও আলামত সংগ্রহ করেছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।