১২০ বছরের তৈয়বজান দুই নাতির কাঁধে চড়ে ভোট দিলেন

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৫

সংগৃহীত

বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, দৃষ্টিও ঝাপসা; কিন্তু নাগরিক অধিকার রক্ষার অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানতে হয়নি। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে দুই নাতির কাঁধে চড়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছেন ১২০ বছর বয়সী বৃদ্ধা তৈয়বজান।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই অভূতপূর্ব দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। ভোট প্রদান শেষে তৈয়বজান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “নিজে চলাফেরা করতে পারি না, তাও আইছি। নিজ হাতে পছন্দের মানুষরে ভোট দিছি, খুব ভালো লাগতাছে।”

একই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা পূর্বধারা গ্রামের ভোটার আকিবুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৬-১৭ বছর পর এবার তিনি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সরাসরি ভোট দিতে পেরেছেন। কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং উৎসবমুখর পরিবেশও লক্ষ্য করা গেছে।

ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৩০৫ জন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোজাহারুল হক জানান, ভোটের প্রথম এক ঘণ্টায় প্রায় ২০০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কেন্দ্রটিতে নিচতলায় নারী এবং দোতলায় পুরুষ ভোটারদের জন্য বুথ রাখা হয়েছে। সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে অনেককেই ক্র্যাচে ভর দিয়ে ভোট দিতে আসতে দেখা গেছে।

ভোট চলাকালীন কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। তিনি নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে কিছু ভোটার কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছে- এমন খবর শুনে পরিদর্শন করলেও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের কোনো অনিয়ম ঘটেনি।

এদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে জানান, ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এবং নির্বাচনী অ্যাপে তথ্য প্রদর্শিত হলেও অনেক ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের বলা হচ্ছে তালিকায় নাম নেই, যা তিনি অপ্রত্যাশিত বলে দাবি করেছেন।

হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার এই আসনে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top