শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

খুলনার ৬টি আসনের চারটিতে বিএনপি, দুটিতে বিজয়ী জামায়াত

খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:৫৬

ছবি কোলাজ: নিউজফ্ল্যাশ সেভেন্টিওয়ান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি চারটিতে ও দুটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভোট গণনা শেষে জেলা প্রশাসক ও খুলনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৬ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার এবং খুলনা-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের পৃথকভাবে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, খুলনা-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির আমির এজাজ খান। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী দাঁড়িপাল্লায় পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। মোট কেন্দ্র ১২০টি। ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ১০৩ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৮৯৯টি।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মো. আবু সাইদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩০ ভোট, ইসলামি ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮১ ভোট, সিপিবির কিশোর কুমার রায় কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৪২ ভোট, কলস প্রতীকে গোবিন্দ হালদার পেয়েছেন ৮৯৪ ভোট, জিওপির জিএম রোকনুজ্জামান ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ ভোট, বিএমজেপির রকেট প্রতীকে প্রবীর গোপাল রায় পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট, তারা প্রতীকে জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত পেয়েছেন ৫১৩ ভোট, ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত কুমার পেয়েছেন ৭১০ ভোট, বিইপির দোয়াত কলম প্রতীকে সুব্রত মন্ডল পেয়েছেন ১৬৯ ভোট।

খুলনা-২ আসনে জামায়াতের মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। এই আসনের ১৫৮টি কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৩ জন। নির্বাচনে অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের আমানুল্লাহ পেয়েছেন ৭ হাজার ২৯৮ ভোট। এখানে হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

খুলনা-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট। এ আসনের ১১৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ২৪৫টি। শতকরা হার ৫৯.৮৪ শতাংশ।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল আউয়াল হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৫ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আক মামুন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১০৭০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান মিঠু হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৭ ভোট, বাসদের জনার্দন দত্ত মই প্রতীকে পেয়েছেন ২৪৬ ভোট, মইন মোহাম্মদ মায়াজ ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ ভোট, আবুল হাসনাত সিদ্দিক জাহাজ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ ভোট, মো. মুরাদ খান লিটন ঘুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩ ভোট, এনডিএমের শেখ আরমান হোসেন সিংহ প্রতীকে পেয়েছেন ১৪১ ভোট।

খুলনা-৪ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট। হেলাল ১৩ হাজার ৬৩২ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনে মোট ১৪৫টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৩ ভোটার।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলনের ইউনুস আহম্মেদ শেখ হাতপাখা প্রতীকে ১৩ হাজার ৩৪৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকে এসএম আজমল হোসেন ৮৫৯ ভোট পেয়েছেন। মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৬টি। এখানে গণভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৯টি। এর মধ্যে হ্যাঁ ভোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৪৫টি ও না ভোট ৭৫ হাজার ৬৪২টি।

খুলনা-৫ (ফুলতলা, ডুমুরিয়া ও গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে হারিয়ে বিএনপির আলি আসগার লবি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আলী আসগার ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকে শামীম আরা পারভীন পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৯, চিত্তরঞ্জন গোলদার কাস্তে প্রতীকে প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৯০ ভোট। আসনটিতে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী গোলাম পরওয়ার পরাজিত হয়েছেন।

খুলনা-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ জন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এস এম মনিরুল ইসলাম বাপ্পী ধানের শীষে পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট। মোট ১৫৬ কেন্দ্রে ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩২ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৯১টি।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে সিপিবির প্রশান্ত কুমার মন্ডল কান্তে প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. আসাদুল্লাহ ফকির হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫০ ভোট ও জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২৭১৭ ভোট।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top