জামিনে মুক্তি পেলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৪
প্রায় দেড় বছর কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দবিরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তিনি দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। আগে একই দিনে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করলে কারামুক্তির আইনি পথ প্রশস্ত হয়। দিনাজপুর জেলা কারাগারের কর্মকর্তা ফরহাদ সরকার গণমাধ্যমকে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
দবিরুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই মামলায় তার ছেলে এবং ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
দবিরুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলেও তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন এখনও দিনাজপুর কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে দবিরুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে একা হাঁটাচলা করা পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না।
কারামুক্তির পরপরই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানী ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কারাগারে থাকা অবস্থায় তার সুচিকিৎসার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক জটিলতায় তিনি ভুগেছেন।
উল্লেখ্য, এই একই কারাগারে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দবিরুল ইসলামের অসুস্থতার খবর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দবিরুল ইসলামের মুক্তিকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে তার অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সরকারের পরিবর্তনের পর ঠাকুরগাঁও ও সংলগ্ন এলাকায় জমি দখল ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে দবিরুল ইসলামকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।