বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

মিরসরাইয়ে নির্বাচন শেষেও ঝুলছে পোস্টার–ব্যানার, সময়সীমা পেরিয়ে অপসারণে গড়িমসি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:০৯

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার পরও বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন ও ব্যানার এখনো বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঝুলতে দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এসব প্রচারসামগ্রী অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

 

মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলার সদর এলাকা, বারইয়ারহাট ও জোরারগঞ্জসহ একাধিক স্থানে নির্বাচনী পোস্টার–ব্যানার অপসারণ না করার চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচন শেষ হলেও বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ ও দেয়ালে টাঙানো পোস্টার–ব্যানার সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

 

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রণীত আচরণবিধি অনুযায়ী, ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নিজ উদ্যোগে সব ধরনের প্রচারসামগ্রী অপসারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অপসারণ না করলে আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়ীদের তালিকা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। গেজেট প্রকাশের ১১ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়নি।

নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে প্রচারসামগ্রী অপসারণ না করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রচারসামগ্রী অপসারণের ব্যবস্থা নিতে পারে।

 

এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল আমিন বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, আইনে যদি সাত দিনের মধ্যে প্রচারসামগ্রী অপসারণের বিধান থাকে, তবে তিনি এমপির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

 

অন্যদিকে, পরাজিত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান নির্বাচন–পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচনের পর তাদের কর্মীরা এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রচারসামগ্রী অপসারণ করা হবে।

মীরসরাইয়ের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের পর সাত দিনের সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থীদের নিজ দায়িত্বে প্রচারসামগ্রী অপসারণ করার কথা। দ্রুত অপসারণে সংশ্লিষ্টদের আবারও অবহিত করা হবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top