বৃহঃস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের পানিতে মিলল শিশুর লাশ, হত্যার অভিযোগে থানার সামনে বিক্ষোভ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৮

হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের পানিতে মিলল শিশুর লাশ, হত্যার অভিযোগে থানার সামনে বিক্ষোভ।  ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে তাহেদী আক্তার (৬) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হাতিরঝিল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় জনতা।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে স্থানীয়রা হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তারা।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত তাহেদী আক্তার কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে। পরিবারটি রাজধানীর পশ্চিম উলন ১২/১/এ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকত।

শিশুটির চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে তাহেদীর মা তারাবির নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় তাহেদী বাসা থেকে বাইরে খেলতে বের হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাহেদীর বাবা বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানির মধ্যে তাহেদীকে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ বাসায় নিয়ে আসা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মো. স্বপন মিয়া বলেন, “আমার ভাতিজি যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেট ভর্তি পানি থাকার কথা। অথচ তার পেটে কোনো পানি পাওয়া যায়নি। বরং তার মুখের ভেতরে বিস্কুটের গুঁড়া ছিল। পানিতে পড়লে এসব মুখে থাকার কথা নয়। এ কারণে আমরা মৃত্যুটিকে স্বাভাবিক মনে করছি না।”

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বোঝা যাবে শিশুটি একা বাসা থেকে বের হয়েছিল নাকি কেউ তাকে নিয়ে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকার আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন থানার সামনে এসে অবস্থান নেন। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার পরপরই আইন অনুযায়ী শিশুর লাশ মর্গে পাঠানো হয় এবং আজ তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হচ্ছে। বর্তমানে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নাম সংযুক্ত করা হবে।”

ওসি আরও জানান, লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top