সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

যশোরে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে শ্বশুরকে হত্যা করালেন জামাই

যশোর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬, ১২:০৮

ছবি: সংগৃহীত

যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শনিবার রাতে শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে মনিরুলকে আটক করা হয়। তিনি শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে।

যশোর সদর আমলি আদালতের বিচারক সাকিব আহম্মেদ ইমন তার জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক অলক কুমার দে জানান, মনিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। আদালতে তিনি আলমগীর হোসেন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের জামাই পরশ। শ্বশুরকে হত্যার জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন তিনি। ঘটনার দিন হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বিকেলে শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুকের হাতে এক লাখ টাকা ও একটি পিস্তল তুলে দেন পরশ।

হত্যার পর বাকি ৪ লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে পরিশোধের কথা ছিল। অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেয় বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি মোটরসাইকেলে ভাগ হয়ে অভিযানে নামে হামলাকারীরা। প্রথম মোটরসাইকেলে ছিল অমিত ও শুটার মিশুক। দ্বিতীয়টিতে আরও দুজন এবং তৃতীয়টিতে তিনজন অবস্থান নেয়।

গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে প্রবেশ করলে তিনটি মোটরসাইকেল তাকে অনুসরণ করে। ইসহাক সড়কের একটি দোকানে কিছুক্ষণ থামলে হামলাকারীরাও সেখানে অবস্থান নেয়।

সাবেক কাউন্সিলর নয়নের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে মিশুক গুলি ছোড়ে। এরপর দুই মোটরসাইকেলে চারজন দ্রুত গোলপাতা মসজিদের দিকে পালিয়ে যায়। অপর মোটরসাইকেলটি বটতলার দিকে চলে যায়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেজপাড়ার ত্রিদিব ওরফে মিশুককে গ্রেপ্তার করা হয়। মিশুকের স্বীকারোক্তিতে রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার শাহীন কাজীকে আটক করা হয়।

শাহীন কাজীর জবানবন্দিতে মনিরুলের নাম উঠে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত আলমগীর হোসেন শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের বাসিন্দা। ঘটনার পর তার স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় জামাই পরশ, সাগরসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেটে লেখা ছিল— ‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top