জুলাই শহীদ সায়মনের মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক: আন্দোলনে না, মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু?
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৪
জুলাই শহীদ হিসেবে সরকারি গেজেটে নাম থাকা আল হামীম সায়মনের মৃত্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তার মৃত্যু হয়, তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চরচার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—সায়মন কি সত্যিই আন্দোলনে শহীদ হননি বরং অন্য কারণে মারা গিয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জুলাই অভ্যুত্থান শাখা প্রকাশিত গেজেটের ৮৪৪ জনের তালিকায় ১০৭ নম্বরে স্থান পায় আল হামীম সায়মনের নাম। মৃতের পরিবারের হাতে আসে সরকারি ৩০ লাখ টাকার অনুদান, এবং ভবিষ্যতে আবাসনের সুযোগও থাকছে।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, ঢাকার বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন বিকেল ৩টার দিকে সায়মন বাসা থেকে বের হন। রাত সাড়ে ১০টায় তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়। পরদিন গ্রামের বাড়ি দাউদকান্দিতে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের এবং সায়মনের বন্ধুদের বরাত দিয়ে চরচা জানিয়েছে, জন্মগত কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে সায়মন ছিল দুর্বল। জুলাই আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন, রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও কখনো আন্দোলনে অংশ নেননি। মৃত্যুর দিন বিকেলে সায়মন ও তার ছোট ভাই হামজা কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল বারে যান। সেখান থেকে মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে সায়মন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের টিকিটে প্রাথমিকভাবে লেখা ছিল “Brought In Death. Cause of death will be ascertained after post mortem. H/O Physical Assault”। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডেপুটি বলেন, শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। পোস্টমর্টেম ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সায়মনের বাবা, কামরুজ্জামান, ২০২৫ সালের ৩০ জুন রামপুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, ১৮ জুলাই রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় সায়মনকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মাসুদ রানা জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলমান এবং মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
সায়মনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস জানান, পচনশীল অঙ্গ বাদে হাড়ের ফরেনসিক পরীক্ষা করে মৃত্যুর কারণ অনুমান সম্ভব।
স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর মূল কারণ ছিল মদ্যপান। তবে সায়মনের বাবা-মা সাংবাদিকদের জানান, তিনি আন্দোলনে নিহত হয়েছেন। চরচার অনুসন্ধান অনুসারে, ঘটনার কিছুদিন পর বাবা মদ্যপানের তথ্য গোপন রাখার নির্দেশ দেন।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জুলাই অভ্যুত্থান শাখার উপসচিব ড. মো. মতিউর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই সংক্রান্ত প্রতারণার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।